লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমরা জন্মসূত্রে দু-হাত দু’টো পা, দু’টো চোখ, মাথা অবয়বে মানুষ! কিন্তু আসলে কি আমরা মানবতা মনুষ্যত্ব তাকওয়া পূর্ণ জীবনের অধিকারী মানুষ হয়ে বসবাস করছি, অহংকার শিরক দম্ভ মুক্ত, প্রতিহিংসা ছেড়ো মুক্ত মন হতে পেরেছি, মনকে প্রসস্হ করতে পেরেছি, অন্যের ছিদ্র অন্বেষণ মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পেরেছি,
না-কি এসব বোঝা কাঁধে নিয়ে মন্দির মসজিদে দৌড়াচ্ছি, মক্কা মদিনা গয়া কাশি বৃন্দাবন আল্লাহ ভগবান কে খুঁজছি ? কুরআনে আল্লাহ বলেছেন ক্ষমার কথা, ” Forgiveness and Restraint and warns not to transgness or become oppressors” আরও বলেছে, “কেউ যদি আঘাত করে তুমি ক্ষমা করো, ধৈর্য ধরে প্রতিশোধ না নাও, আমি তোমার সাথে আছি (কুরআন ১৬: ১২৫ – ১২৮)। অনেক আগে পড়া ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন!
প্রিয় পাঠক, সৃষ্টি কর্তা এ-ই দুনিয়ায় আপনাকে বুঝবার মত জ্ঞান দিয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষা দিয়েছেন, উদাহরণ দিয়েছেন কিন্তু আপনি চক্ষু মেলে তা দেখছেন না! তাই গোমড়া পাপী হয়ে পাপ মুক্ত হতে ছুটছেন, মক্কা মদিনা গয়াকাশি বৃন্দাবন ! অর্থ হয়েছে অঢেল, সেজন্য ফরজ সেরে আসুন, কিন্তু প্রতিবছর কি মক্কা মদিনা যাওয়ার কথা পবিত্র কুরআনে কোথাও বলা হয়েছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই বেহেশতে দাখিল কুরআনের কোথাও বলা হয়েছে? বরং তার পাহাড় সমান পাপ ক্ষমা পাবেন, মানুষের সরিষা পরিমান অন্যায় ক্ষমা নাই বলা হয়েছে!
আপনি কি এমন মানুষ হয়েছেন যে আপনার অভিশাপে “কারো ঘর পুড়ে যাবে”, কারো মেয়ের ৪/৫ টা বিয়ে হয়ে ও সংসার হবে না, কাউকে বিপদে দশ হাজার টাকা না দেয়ায় একই বিমারি তে আপনার ১০/১২ লাখ বের হয়ে যাবে পকেট থেকে এবং জীবন মৃত্যুর ঝুঁকি তে পড়বেন?
ডিগ্রি পাশ করা ছেলেটার বেকারত্ব ঘুচাইতে তার বাবা পিছু নিলো, কারো সহায়তায় চাকুরী দিলাম চিটাগং বিশাল কারখানার গোডাউনের সুপারভাইজার! কথা দিয়েছিলো সততার সাথে মালিকের সম্পদের রক্ষক হবে! আমদানি মাল গোডাউনে না ঢুকায়ে যোগসাজশে বিশ ট্রাকের ৫ ট্রাক বিক্রি, আবার রপ্তানি মাল দশ ট্রাক কাগজ কলমে দেখায়ে ১২ ট্রাক বের করে ২ ট্রাক বিক্রি!
২/৩ বছরে কয়েক কোটির মালিক, বাস নামায় দিলো রোডে কয়েকটা, চাকুরী ছেড়ে বিরাট ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী! কোম্পানি মালিক জানলেন না কেন চাকরি ছেড়ে দিলো! শুধু আমাকে চিটাগং থেকে ফোনে জানালেন “আপনার দেয়া ছেলেটা নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছে, কিন্তু চাকুরী কেন ছেড়ে দিলো?” আমি সব বুঝে জবাব হীন রইলাম!
২/৩ বছর পর টাউট রাজনৈতিক নেতার (আত্মীয়তার সূত্রে) হাতে সব টাকা গাড়ী গুলো আটকা পড়ে গোলো, টেনশনে স্ট্রোক এবং মৃত্যু। এক ছেলের বাবা কেবল! দোতলা বাড়ী বিক্রি করে স্ত্রী চলে গেছে, টকা ব্যবসা নেতার ভোগ দখলে শোনা যায় !
বিজ্ঞানী নিউটনের তৃতীয় সূত্র — To every action there is an equal and opposite reaction! এক ই কথা কুরআনে আছে!
আমি দেখেছি, বিশ্বাস করুন, আমি দেখেছি! উপরে বর্ণিত প্রতিটি অভিশাপের প্রতিফলন আমার চোখের সামনে ঘটছে!
অলৌকিক ঘটনা —
আপনি কি জানেন নীলফামারীর একজন মানুষের “কবর” বিশাল খালের মাঝ খানে ভেসে থাকে! এই গভীর খাল কবর দেয়ার সময় ছিলো না। কিন্তু প্রশাসন তিস্তা খাল খননের সময় কয়েক মাইল এসে কবর বেধে যায় পথে, মসজিদ কবর যা পথে বেধেছে সব ভেঙে খাল খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে গেছে! মসজিদ ভাঙতে বিপত্তি ঘটে নাই কিন্তু এই কবর টা তুলতে গেলে বাঁধে বিপত্তি, বুলডোজার এনে কবর ভাঙ্গতে শত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিলো খননন কতৃপক্ষের ! ভাঙতে যারা চেষ্টা করেছেন, অসুস্থ হয়েছেন, ভীত হয়ে ক্ষান্ত দিয়েছেন! অগত্যা বিশাল খাল কবরের চারিদিক থেকে কাটা হলো, স্রোত বয়ে গেলো নদী সংযোগের পর। ভাদ্র মাসে ৩০/৪০ ফিট জল হয়, কবর জলের উপর ভেসে থাকে। আবার চৈত্র মাসে জল শুকালে সেই জায়গায় কবর অবস্থান করে!
এ অলৌকিক গঠনা আপনার চোখের সামনে!
সৃষ্টি কর্তার একজন বাছাইকৃত “পুণ্য বান ব্যক্তির কবর” বোঝা যায়।
“সৃষ্টি কর্তা কেন তাকে এত ভালোবাসন তা আমি জানি না, তবে মিথ আছে তিনি তার ৮২ একর ফসলি জমি গরীব দূঃখী র ভিতর বিলায়ে দিয়ে হেটে কাবার পথে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং এসে অসুস্থ হলে বলেছিলেন, “আমার মৃত্যু হলে ঐ জায়গায় কবর দিও!” ঘটনাটা সম্ভবত ১৯৮৪ সালে কারন তখন তিস্তা খাল খনন করা হয় ৬ টা জেলার মরুভূমি ঠেকাতে, কিছুটা জল সেচের জন্য! আমরা কতজন চান্সের হাজী, লোক দেখানো হাজী, গরীবের সম্পদ লুটের পর পরিষ্কার হতে মক্কা যাত্রা, ভাই-বোন মা-বাবার কোনদিন খোঁজ না নিয়ে আল্লাহ কে মক্কায় খোঁজা হাজী! আমি নিজেই পবিত্র কাবা প্রায় শতবার তওয়াফ, অনেকবার উমরাহ এবং হজ্জ করেছি কিন্তু মনের পবিত্রতা কি সেখান থেকে বহন করে এনেছি ভাসমান কবরে শায়িত হাজী সাহেবের মত! অথবা তিনি গরীব দূঃখী আতুর রোগীর জন্য এমন কিছু করেছিলেন যার পুরস্কার আল্লাহ তাকে দিয়ে রেখেছেন এই দুনিয়ায়!
তিনি তার সম্পদ বিলিয়ে দেয়ার সময় স্ত্রী সন্তান কোন বাঁধা দেন নাই, আত্মীয়স্বজন জিজ্ঞেস করেছিলো, ” “তার আওলাদের ভবিষ্যৎ কি?” তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহ কাউকে না খাওয়ায় মারেন না, তাদের রেজেক রাখা আছে, তাদের অন্বেষণ করে নিতে হবে!” আমরা ঈমান হীন মানুষ, সন্তান কি খাবে সে চিন্তায় রাতে ঘুমাই না!
ভাগ্য —
ভাগ্য বিশ্বাস করতে হয়! আমি নিজ জীবনে তা দেখেছি! অনিশ্চিত ভবিষ্যতে যখন পড়েছি, সৃষ্টি কর্তা তখন টেনে তুলেছেন! বোকার মত অন্যের জীবন বাচাতে বা সংসার বাচাতে বা পরোপকারে অনিশ্চিত পথে পা বাড়িয়েছি, ভাগ্য আমাকে বিমুখ করে নাই।
ভালো চাকরি ছেড়েছি, হঠাৎ সহধর্মিণী অসুস্থ হলে বিদেশ ছেড়েছি, ভাবি নাই কোন চাকচিক্য জীবন,
সরকারি চাকরি থেকেও ভালো চুয়েট বুয়েট রুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে যথাযথ ইন্টারভিউ দিয়ে কোয়ালিফাই হয়ে জব মিলেছে বিদেশি প্রশাসনের অধীনে! অঢেল অর্থবিত্তের মালিক না হলে-ও বিপদ-আপদে আত্মীয়স্বজন মসজিদ মাদ্রাসা কারো অসুস্থতার সাহায্য থেকে সরে যাইনি, বাবার রেখে যাওয়া সন্তানদের দু’বেলা ভাত জোগাড়ের চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাইনি, কখনও কারো কাছে ভাগাভাগি করে অর্থ খরচ করার মানসিকতা হয় নাই। আমার অনেক পড়াশোনার এবং বিদেশি হ্যান্ডেল জব ছিলো, সময় অভাবে সব ই সহধর্মিণী কে করতে হয়েছে। দেশবিদেশ ঘোরার তৌফিক আল্লাহ দিয়েছেন! আত্মীয়স্বজন নিয়ে সুন্দরবনের দু-তিনবার সফরের সময় হোটেল ভাড়া থেকে বোট ভাড়া থাকা খাওয়া কোন আত্মীয় স্বজন থেকে হিস্যা নেয় নি, তাদের আগ্রহ থাকা সত্বেও এমন নিন্মমানের কাজ কখনও করেন নাই! তবুও বেঁচে আছি! সংসারে তিনজন মানুষ ছেলে সহধর্মিণী নিজে, কারো এসব বিষয় দ্বিমত দেখি নাই! এটা ও ভাগ্য !
অনেক সম্পদ রেখে না যেতে পারলেও সৃষ্টি কর্তা ভালো রেখেছেন শোকরানা আদায় করি!
প্রিয় পাঠক, একসাথে দু’জন রিকশা বাস গাড়ী চড়লে, হোটেলে খেলে, সিনিয়র হলে আগে মানি ব্যাগটা বের করুন, আগে সালাম দেয়ার অভ্যাস গড়ুন, সন্তানদের শিক্ষা দিন, জীবন চলার পথের অভিজ্ঞতা হচ্ছে বড় শিক্ষা যা পুথি পুস্তক থেকে পাওয়া যায় না!
একথা ও সত্যি জন্মস্থান, এলাকা, পারিবারিক ছোঁয়াস, রক্তের ধারা বদলানো বেশ কিছুটা কঠিন তবু্ও আমাদের চেষ্টা করা প্রয়োজন! কারন চলার পথে শতজন দুনিয়া থেকে চলে গেছেন আমি কেন বেঁচে আছি, এটা “ভাগ্য”! তা ভেবে পথ বদলায় চলেন! আপনাকে যেতে হবে, দশতলা বিল্ডিং বাড়ী গাড়ী একাডেমিক সনদ আপনাকে অমরত্ব দিবে না!