• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
চুনতীর ১৯ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা): সীরতের শিক্ষা অনুসরণেই নৈতিক সমাজ গঠন সম্ভব ডোমারে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার পাঁচবিবিতে শিক্ষককে শিক্ষার্থীর উপহার প্রদান সেবায় আস্থা, দায়িত্বে সাহসিকতা—এসিল্যান্ড মুজিবুর রহমানকে বহালের দাবি রাণীশংকৈলবাসীর সুনামগঞ্জ সরকারী পুকুরে শতাধিক শিশুদের নিয়ে সাতাঁর শিখানোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ৭ থানাকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠ বালিয়াডাঙ্গী, ওসি বুলবুলের হাতে সম্মাননা গোয়াইনঘাটে টাস্কফোর্সের অভিযান: ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ২৭টি ড্রেজার ধ্বংস একটি হার না মানা গল্প লোহাগাড়ায় ২ হাজার পিস ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ জন গ্রেফতার কটিয়াদীতে নেশার টাকা যোগাতে চার পরিবারের পাঁচ সন্তান বিক্রির অভিযোগ

ইসলামের দৃষ্টিতে ভ্যালেন্টাইনস ডে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস…

Reporter Name / ৩০৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫

 

মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী

প্রারম্ভ:-
প্রথম কথা হল, ‘ভালোবাসা দিবস’ কথাটা একটা প্রতারণা। ‘ভালোবাসা দিবসে’র ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘love day’,। আর ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে’র ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘world love day’ বা ‘international love day’। পৃথিবীতে ‘world love day’ বা ‘international love day’ নামে কোনো স্বীকৃত পরিভাষা নেই।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তি শিকড়ের সন্ধানে:-

ভালবাসা দিবস-এর ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া সহ আরো বহু রেফারেন্স থেকে জানা যায়, “রোমান এক খ্রিস্টান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। চিকিৎসা বিদ্যায় সে ছিলো অভিজ্ঞ। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সে যখন বন্দি ছিলো তখন তরুণ-তরুণীরা তাকে ভালবাসা জানিয়ে জেলখানায় জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিতো। বন্দি অবস্থাতেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়ার চিকিৎসা করে। মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে সে লিখে যে, “ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।” অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

ইতিহাস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, তথাকথিত ভালবাসা দিবস কখনোই এদেশীয় অর্থাৎ বাঙালি সংস্কৃতির অংশ ছিলো না। আর মুসলমানদের সংস্কৃতিতো নয়ই। বরং তা সম্পূর্ণরূপেই বিজাতীয়, বিধর্মীয় তথা, পশ্চিমা ইহুদী-নাছারাদের প্রবর্তিত নিয়মনীতি, তর্জ-তরীক্বা যা অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য কাট্টা হারাম ও শক্ত কবীরা গুনাহ। এছাড়া তথাকথিত ভালবাসা দিবসের নামে মূলত চলে বেপর্দা-বেহায়াপনার নির্লজ্জ উৎসব। যাতে ইবলিস শয়তানের ওয়াসওয়াসা থাকে ও নফস বা প্রবৃত্তির উদ্দামতা যুক্ত হয়।

ভালবাসা’ এক পবিত্র জিনিস যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে আমরা পেয়েছি। ভালবাসা’ শব্দটি ইতিবাচক। আল্লাহ তা‘আলা সকল ইতিবাচক কর্ম-সম্পাদনকারীকে ভালবাসেন।

সূরা আল-বাকারার ১৯৫ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

‘‘এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। তোমরা সৎকর্ম কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুহসিনদের ভালবাসেন।’’

নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করছে। যারা ঈমানদারদের সমাজে এ ধরণের অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

সূরা আন-নূর এর ১৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

‘‘ যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।’’

যে সমাজেই চরিত্র-হীনতার কাজ ব্যাপক, তথায় আল্লাহর নিকট থেকে কঠিন আযাব সমূহ ক্রমাগত অবতীর্ণ হওয়া অবধারিত,

আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

… لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمِ…

‘‘যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান, পরে তারা তারই ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, যার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারি, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায় নি।’’

[ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, হাদিস নং-৪০০৯]

ভালবাসা দিবসের নামে নির্লজ্জতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যিনা-ব্যভিচার, ধর্ষণ ও খুন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

… وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ قَطُّ إِلَّاكَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ…
‘‘যে জনগোষ্ঠীর-মধ্যেই ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তথায় মৃত্যুর আধিক্য ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে।’’

[মুয়াত্তা মালিক, কিতাবুল জিহাদ, হাদিস নং-৮৭০]

পরিশেষে বলবো…
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝে, সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক দান করুক আমিন। সুতরাং, আমরা এমন ঘৃণিত অপসংস্কৃতিকে ‘না’ বলি এবং যাবতীয় নোংরামি ও কদার্যপনা থেকে দূরে থাকি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd