লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কত দেশের কতজনের কত দান
তারা কি জানেন, যারা মুক্তি যুদ্ধ মুছে দেন?
আকাশবাণী কলকাতার “দেব দুলাল বন্দোপাধ্যয়” তার রাত দশটার সংবাদ পাঠে পাচ মিনিট শুধু বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ নিউজ দিতেন! রেডিও কতৃপক্ষ তাকে এই অনুমতি দিয়েছিলো! তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি যখন মুক্তি যুদ্ধের সংবাদ পাঠ করতাম তখন শিহরিত হতো আমার প্রতিটি শিরা, মনে হতো আমি ও একজন মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল নিয়ে কোন বাংকারে!
জাতির জনক “মুজিব” শুধু রাজনীতিবিদ ছিলেন না তিনি কবি সাহিত্যিক ও ছিলেন! তিনি কবি নজরুল কে কেন কলকাতা থেকে এনে ধানমন্ডি ২৬ নাম্বারে বাড়ী দিয়েছিলেন, যে বাড়ী হয়ে উঠেছিল একটা অন্য ধরনের বাংলা একাডেমি! তিনি ভুলে যান নাই কলকাতা বেতার কেন্দ্রের “দেব দুলাল বন্দোপাধ্যয় কে!
১৯৭২ সালে দেশে ফিরে ” দেব দুলালকে” নিমন্ত্রণ করে এনে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন!
তিনি তিন মাসের ভিতর সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল করতে রাশিয়ার “ব্রেজনেভের” সহযোগিতা যেমন নিয়েছিলেন, তেমনি নতুন বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে ঘোড়াশাল রাশিয়ার অর্থে কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন যা তার জীবদ্দশায় উৎপাদনে গেছে!
নদীমাতৃক বাংলাদেশের একমাত্র জনযোগাযোগ ছিলো নদীপথ! প্রায় ১১/১৩ শো নদী বাংলাদেশে, এই ২২/২৩ হাজার কিলোমিটার নদীপথ সম্পূর্ণ পাকিস্তান সেনারা মাইন পুতে রেখে গেছিলো যে জন্য প্রায় তিনমাস কোন লঞ্চ স্টিমার চলতে পারে নাই, এমন কি নৌকা মাইনে উড়ে গেছে মাঝি সহ! “মুজিব” রাশিয়ার মাইন সুইপার ডেকে অল্প দিনে সম্পূর্ণ নদী পথ পরিষ্কার করে চলাচল উপযোগী করে ব্যবসা বানিজ্য চালু করেছিলেন!
প্রিয় পাঠক, এদেশের শিক্ষিত অশিক্ষিত মুর্খরা খোঁজে, মুজিব ৭ ই মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করলো না কেন, ১০ লক্ষ উপস্থিত লোক নিয়ে সেনানিবাস আক্রমণ করলো না কেন? ২৬ মার্চ উনি না পালিয়ে ৩২ নাম্বারে বসে থাকলেন কেন? কেন তিনি সেচ্ছায় গ্রেফতার হলেন, কেন বাংকারে ঢুকে নিজে রাইফেল চালালো না? আহম্মক এক জাতি! এসব কথার উত্তর মুজিব শতবার বিদেশি সাংবাদিকদের দিয়েছেন! তিনি বলেছেন, “নেতা কখনও তার জনগন রেখে পলায়ন করে না, যে পলায়ন করে সে কোন নেতা না! তিনি অন্য প্রশ্ন উত্তরে বলেছেন, ” ভারত কেন আমি যে-কোন দেশে চলে যেতে পারতাম, পালাবো কেন দরকার হলে আমার জনগণের সাথে জীবন দেবো!” তিনি পাকিস্তানের ঘাড়ে বন্দুক রাখে ২৬ মার্চ আরলি নাইট শেষ কাজটি “স্বাধীনতার ঘোষণা” দিয়ে গেছেন! তাইতো পাকিস্তানি এ্যাটর্নি জেনারেল তার বিচার করতে যে সব ধারা তুলে ধরেছিলেন তার মধ্যে বিছিন্নতাবাদী ট্রেরোরিস্ট ধরনের বিষয় ছিলো না !
প্রিয় পাঠক, আমার বিষয় ছিলো “সংবাদ পাঠক দেব দুলাল”! তিনি না খাওয়া পরিবারের সন্তান, কবিতা লিখতেন, তাকে ১৯৬০ সালে সুধী দাশগুপ্ত আকাশ বানীতে চাকরি দেন! তার দরাজ কন্ঠে উল্লাস উচ্ছাস নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় মুক্তি যোদ্ধাদের অগ্রগতি শুনতে বাংলাদেশের সমস্ত গ্রামের মানুষ রাত ১০ টা পর্যন্ত জাগতেন ২/৩% পাকি পন্হী ছাড়া!
ভালো থাকেন দেব দুলাল বাবু যেখানে থাকেন এপারে পরোপারে আমরা আপনাকে মনে রাখলে ও আগামী প্রজন্ম আপনাকে চিনবে না, আপনার ” পদ্মশ্রী” উপাধির কথা কেউ জানবে না, জানবে না একটা দেশের জাতির জনক আপনাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন আবেগে!