আমি নারী-
আমি পারি না এমন কিছু নেই
ভুল করেও দুর্বল ভেবো না আমায়।
আমি নারী-
জায়া, জননী, ভগ্নী একই অঙ্গে লুকিয়ে থাকা শতরূপা আমি।
শতরূপে প্রকাশিত হয় ভিন্ন ভিন্ন রঙ,মুগ্ধতার আবেশ,উদারতার আঁচল,সৌন্দর্যের পেখম মেলি আমি।
বৈষম্য,ভেদাভেদ, অস্থিরতা আর নিঃসঙ্গতা আমাকে তেজোদ্দীপ্ত করে।
আমি নারী-
আমি পারিনা এমন কিছু নেই–
সব অত্যাচারের শিকল ভেঙ্গে চুরমার করে ধ্বঃসস্তুপের ভেতর থেকে নতুন কিছু আবিস্কার করতে জানি।
আমি নারী-
আমি সুবর্ণ হয়েও বিবর্ণ আকার ধারণ করতে পারি।
বাণীতে জানি নারীকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন
সেই পাত্রের রঙ ধারণ করতে পারে তারা।
কোমল ফুলের কলি হয়েও অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে পারে।
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দিতে পারে অত্যাচারির হৃদয় জমিন।
ভুল করেও ভেবো না নারীরা অবলা-
বরং এটা সত্যি — সবলাকেও কখনও কখনও অবলা হতে বাধ্য করা হয়।
চোরাবালির ফাঁদে ফেলে ধীরে ধীরে তলিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়
পণ্য বানানো হয় নারীকে।
ভেবো না, আর কখনও ভেবো না–
নারীরা সস্তা পণ্য, অবলা।
জেনে রেখো-খুব অবহেলিত পণ্যটিও একদিন অমূল্য হীরা,জহরত, মণিমুক্তা হয়ে উঠতে পারে ।
পদদলিত করে বুকের উপর বসতে পারে নিজ আসনে।
মোমবাতি ক্ষীণ শুভ্র আলো থেকে দাবানল হয়ে জ্বলে উঠতে পারে।
আমি নারী-
আমি পারিনা এমন কিছু নেই–
সন্ধ্যা মালতী, নাইট কুইন, ভোরের সদ্য ফোটা শিউলি-
কিংবা দিনের আলোয় প্রস্ফুটিত পৃথিবীর তাবৎ ফুলের রূপ আমার অঙ্গে।
তাকে ধুতরার রূপ ধারণ করতে বাধ্য করো না।
বিষে বিষে জরাজীর্ণ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে তুমি।
আমি নারী–
আমি পারি বিন্দু বিন্দু চোখের নোনা জলে তৈরি হওয়া সাগরের প্লাবনে জালিমের দেহটাকে ভাসিয়ে দিতে।
যেখানে হাঙ্গর,কুমির,তিমি খুবলে খুবলে খাবে সমস্ত দেহটা।
কবর, শ্মশান,মঠ কোথায়ও তিল পরিমান ঠাঁই হবে না, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
ক্ষণিকের রক্তের গরমের দাপটে ইহকাল ও পরকাল দু’কাল হারিয়ে ফেলো না।
লজ্জাবতী গাছ যেমন একটু স্পর্শ পেয়ে নুইয়ে পড়ে নারীরাও তাই।
লজ্জাবতীকে লজ্জাহীন করে তুলো না
নিরবতাকে দূর্বলতা ভেবো না
সরলতাকে বোকা ভেবো না
উজার করে দেওয়াকে লুফে নিও না
কোমলতাকে অগ্নিমূর্তি করে তুলো না
স্নেহের পরশকে অবহেলা করোনা
ভুল করবে– বড্ড বেশি ভুল করবে।
আমি নারী-
আমি পারিনা এমন কিছু নেই।