জানো শৈশব? তুমিতো সেই কবে চলে গেছো!
কিন্তু আজকাল বড্ড বেশি মনে পড়ে তোমাকে।
যান্ত্রিক এ জীবনে স্মৃতির গহীনে থাকা তুমি
কখনো কখনো অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠো।
কেন জানো শৈশব? পৌঢ়ত্ব পর্বের জটিল
সব অভিজ্ঞতার ভীড়ে তোমার সারল্যময়,
নির্ভার সময়টা অনেক বেশি উপভোগ্য ছিল।
জানোতো? তোমার সময়কার সেইসব
দুরন্তপনার লেশমাত্রও আজ আর নেই।
ওসব কবে ছুট দিয়েছে! ঘুমের ভান করে!
সুযোগ পেলেই সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে,
গ্রীষ্মের তাপদহন থোড়াই কেয়ার করে বেরিয়ে পড়া।
শামীমদের বাড়ীর সেই জামগাছের নিচে
শামীমের দরাজ কন্ঠে গান শোনা,
হাবিবকে দিয়ে জোর করে বাঁশি বাজানো আরো কত কি?
আমাদের বাড়ীর কাছারি ঘরে শুয়ে বসে -গল্পে মেতে ওঠা।
জোরে জোরে রেডিও বাজিয়ে অনুরোধের আসর শোনা।
তারপর অপেক্ষা উত্তর আকাশে ভীষণ রকম কালো মেঘের ঘনঘটার।
তারপর তারপর কালবৈশাখী ঝড়, সে-কি উচ্ছ্বাস,
মুষলধারে বৃষ্টি হলেতো কথাই নেই।
ফুটবল, হাডুডু, দৌড়, সাতার প্রতিযোগিতা আরো কত কি!
জানো শৈশব? আষাঢ় শ্রাবণের সেই লাগাতার বারিধারা আজ আর নেই!
মাঠ-নদী-খাল মিলেমিশে একাকার!
একদিকে আনন্দে আত্মহারা, অন্যদিকে মায়ের বকুনি,
আব্বার রক্তচক্ষু, বড়দের কড়া শাসন।
তবুও তবুও ভীষণ মধুর ছিল তোমার সময়টা।
শৈশব তুমিতো জানো! আব্বা চিরতরে বিদায় নিলেন তখন তুমি বারোতে।
মা বিদায় নিলেন কৈশোরে পা রাখতে না রাখতেই।
জানো শৈশব? আজ বড্ড বেশি মন চায়
মায়ের হাতের মমতামাখা সেসব পছন্দের খাবারের স্বাদ নিতে।
কোলে মাথা রেখে গল্প শুনতে,
অনেক বেশি মন চায় মায়ের শরীরের গন্ধ নিতে।
বড্ড বেশি মন চায় আব্বার সেই কড়া শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হতে।
শরতে নদীর ধারে কাশবন, সনাতনী বন্ধুদের পূজার প্রস্তুতি, আয়োজন, নৌকা বাইচ, সবাই মিলে একাকার।
মনে পড়ে মহাদেব, তাপস, দুলাল, হিমাংশু
হিন্দু পাড়ার আরো কত বন্ধুদের কথা।
হেমন্তের মাঠভরা সোনালী ফসলে ঢেউ খেলানো সেই লুকোচুরি,
ধানের শীষে প্রজাপতির আনাগোনা!
শৈশব মনে পড়ে? শীতের ধান কাটার উৎসব, পিঠাপুলি, বন্ধুরা দল বেঁধে খেজুরের রস চুরি করে সিন্নির আয়োজন!
স্কুল মাঠের এক কোণে কলাগাছ আর মাটি দিয়ে শহীদ মিনার বানানো।
রাতের অন্ধকারে মালিককে না বলে ফুল গাছের ফুল এনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য।
তা নিয়ে কতরকম মজা, মধুর স্মৃতি!
সারারাত জেগে মাইক বাজিয়ে দেশের গান শোনা, সকালের প্রভাত ফেরী।
জানো শৈশব? জীবন নামক বোঝার ভারে
আজ সবই ফিকে ফিকে লাগে!
আজকাল সবই যেন আনুষ্ঠানিকতা।
সেই আবেগ, হৃদয় নিঙড়ানো অনুভূতির
বড্ড অভাব বড্ড অভাব শৈশব!
জানোতো? আজ আর সেই মাঠ নেই,
খাল নেই, নদী নেই জলাশয় নেই।
আছে শুধু যান্ত্রিকতা আর মানুষের স্বার্থপরতা, চতুরতা, ভন্ডামী, মিথ্যার বেসাতি, ক্ষমতার লড়াই,
ক্ষমতার আড়ালে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া, ভোগবাদীতা।
জানো শৈশব? আজকাল বড্ড বেশি মনে পড়ে তোমাকে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬