মোহাম্মদ মনজুর আলম অনিক
অভাবেতে পরি খাইলো কাঙাল বাড়ি
ভাসিল নয়ন জলে,
ভিটা মাটি ছাড়া শূন্য ছিল ধরা
দুই শিশু যুগল কোলে।
কহিল " হে দ্বারা! মুই ভিটা ছাড়া
চলো ভিনগাঁয়ে যাই চলে
রহিব হে সেথা চাপি রাখো ব্যথা
শান্তি পাইব মলে।
খাবারের দায়ে মহাজন পায়ে
যাইয়া পরিনু ধপাস,
নিয়া কয় কড়ি ফিরিনু কো বাড়ি
আসিল সর্বনাস।
অজ্ঞ মূর্খ বলে ছলে কৌশলে
লিখিয়া নিয়াছে বাড়ি,
কে জানিতো হায় কটা কড়ির দায়
সবই লইবে কাড়ি।
কান্না করিয়া কত বুঝাইলাম শত
ওহে মহাজন,
আর কিছুদিন সুধিতে হে ঋণ
দাও মোরে কাল ক্ষন।
মহাজন হাসি বলে এতদিন গেল চলে
শুধিলি না কেন তবে?
এই দ্যাখ মোর খাতা লেখা আছে সব কথা
তোর বাড়ি মোর হবে।
হায় পোড়া ভাল ছলনার জাল
বিছায়াছে মহাজন,
কটা কড়ীর দায়ে কৌশল লয়ে
বাড়িটা করিল ভক্ষণ।
অঞ্চলে চোখ মুছি নহে মিছামিছি
কাঁদিলো কাঙাল দ্বারা,
তার আঁখি জলে দুঃখ সব গলে
ভিজিলো হে গোটা পাড়া।
প্রতিবেশীগণ তাহারি মতন
বহুত কাঁদিল সাথে,
আখি জল নিয়া কাধে হাত দিয়া
আসিল বিদায় দিতে।
পাড়ার কত নারী আসিল কাঙালবাড়ি
ছাড়িছে কাঙ্গাল ঘর,
অদ্য হইতে তারা হইবে পল্লী ছাড়া
হইয়া যাইবে পর।
হায়রে মহাজন করিল শোষন
কাঙালের ঘর খানি,
যাইতেছে ঘর ছাড়ি অজানায় দিতে পারি
লইয়া নয়নে পানি।
কতজনের কাছে লিখিয়া দলিল মিছে
বদ মহাজন,
লইয়াছে জমি কাড়ি লইয়াছে কত বাড়ি
করিয়াছে কত শোষন।
জমি বাড়ি নিয়া চোখে অশ্রু দিয়া
হরষে করে ভোজন।
ক্ষোয়াইয়া বাড়ি ক্ষোয়াইয়া কড়ি
কত কাঙাল জন,
বৃক্ষ শাঁখে গিয়া গলে দড়ি দিয়া
আপন হস্তে দিযাছে আপনার মরণ।
যেতেছে কাঙাল চলি বক্ষে দুখের থলি
অন্ন নাইয কো পেটে,
ক্রোড়ে লইয়া শিশু চোক্ষে লইয়া আশু
ত্যাগিয়া নিজের ভিটে।
ওই যে কাঙাল যায় দূরের অজানায়
জানিনা বাঁচিবে কিনা,
সঙ্গে নিজের দ্বারা হইয়া গৃহ ছাড়া
সেও তো কাঁদিয়া ফানা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬