মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর ধর্ষণ মামলায় ঘটেছে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক ঘটনা।অভিযোগের পর ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, আর অভিযুক্ত সেনা সদস্যকে পুলিশ ভিকটিম উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের জটুয়াখাতা (কলোনি পাড়া) গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ১৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ধর্ষণের শিকার হন।
অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে আলী হাসান (২৩)-এর। তিনি দক্ষিণ খড়িবাড়ি তেলীর বাজার এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত একজন সেনা সদস্য। ছুটিতে বাড়িতে থাকাকালীন এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী কোহিনুর আক্তার (ছদ্মনাম) ও আলী হাসানের মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন রাতে দেখা করার কথা বলে আলী হাসান তাঁকে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কোহিনুরের মা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আলী হাসানকে হাতেনাতে আটক করেন।
তবে থানায় মামলা দায়েরের পর ঘটনাটির মোড় নেয় অস্বাভাবিক দিকে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অব.) মোঃ তছলিম উদ্দিনের নাম ও সিল ব্যবহার করে তাঁর প্রতিনিধি মাজেদ পাটোয়ারী মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বাবা দেলোয়ার হোসেনের করা অভিযোগকে প্রাধান্য দিয়ে পুলিশ মামলা রেকর্ড করে, অথচ ভুক্তভোগীপক্ষের চাচা রোস্তম আলীর দেওয়া অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন,
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। লএখানে কোনো ধরনের সুপারিশ বা চাপ গ্রহণ করা হয়নি।
তবে স্থানীয়দের বড় একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই মামলার গতিপথ পাল্টে গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কোহিনুর আক্তার (ছদ্মনাম-১৯), গাজিউর রহমান (৫০), আবুল হোসেন (৫৫) ও দেলোয়ার হোসেন (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিমলা থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়েছে মামলা নম্বর-১০, তারিখ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আলী হাসানকে পুলিশ ভিকটিম উদ্ধার” দেখিয়ে আদালতে হাজির করায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন,
যে মেয়েটি নির্যাতনের শিকার,তাকেই জেলে পাঠানো হয়েছে।এতে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা হযরত আলী বলেন,
আমরা নিজের চোখে অভিযুক্তকে আটক হতে দেখেছি।এখন সে যদি ভিকটিম হয়, তাহলে প্রকৃত ভিকটিম বিচার পাবে কোথায়
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেঃ কর্নেল (অব.) মোঃ তছলিম উদ্দিন বলেন,
ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। জানার পর আমার প্রতিনিধি মাজেদকে জিজ্ঞাসা করেছি।সে তার ভুল স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে মাজেদ পাটোয়ারী যা করেছে তা দলের ভাবমূর্তি ব্যাবহার করতে চেয়েছে, আমি কখনো অন্যায়কে আশ্রয় দেইনা,
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশের ভূমিকা তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।এতে নারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে ন্যায়বিচারের এক মাত্র পথ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬