মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মব জাস্টিসের শিকার হয়ে গুরুতর আহত দুই সাংবাদিকের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক কালবেলার ডিমলা প্রতিনিধি ও ডিমলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মৃধা এবং বার্তা বাজার ও দৈনিক নয়া দিগন্তের ডিমলা প্রতিনিধি ও একই ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজোয়ান ইসলাম।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখার সময় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। এতে ডিমলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে গভীর হতাশা বিরাজ করছে।
এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের শুকানদিঘী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার রাতেই আহত সাংবাদিক মো. রেজোয়ান ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হলেও তিন দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
মামলার বাদী মো. রেজোয়ান ইসলাম বলেন,
এতদিন পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা ভীষণভাবে হতাশ। এতে পুলিশের গড়িমসি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
অপর আহত সাংবাদিক কামরুজ্জামান মৃধা বলেন,
এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করা হয়। এখনো হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়ন, ডিমলা প্রেসক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, ডিমলা উপজেলা প্রেসক্লাব ও ডিমলা রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা একে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা বলে অভিহিত করেছেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা যদি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তবে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার এবং সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬