জানুয়ারি জানে না
তার সামনে কতটা পথ,
কত হাসি, কত কান্না,
কত ভাঙা গড়া অপেক্ষা করে আছে।
তবুও সে ভরসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,
নতুন ক্যালেন্ডারের প্রথম পাতায়।
ডিসেম্বর জানে
কোথায় হোঁচট খেয়েছি,
কোথায় স্বপ্ন বুনেছি,
কোন মানুষটি এসে রয়ে গেছে,
আর কে নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে
সময়ের ভিড়ে।
আমি একজন শিক্ষক
জানুয়ারিতে নতুন শিশুদের বরণ করি,
অচেনা মুখে খুঁজি সম্ভাবনা,
কচি হাতে ধরি প্রথম অক্ষর,
ভয় আর কৌতূহলের মাঝখানে
বিশ্বাসের আলো জ্বালাই।
ডিসেম্বরে আমি বিদায় দিই
যাদের সঙ্গে কেটেছে একটি বছর,
যাদের চোখে আজ সাহস,
যাদের পিঠে ভর দিয়ে
নিজের শিক্ষকতা মাপি।
তাদের পাঠাই উচ্চ স্বপ্নের পথে,
নীরব দোয়া আর গভীর আস্থায়।
আজ শিশু জড়িপে বের হয়েছিলাম,
ভর্তির জন্য খুঁজছিলাম নতুন জানুয়ারি।
আমার পাশে ছিল বিদায়ী পঞ্চম শ্রেণি
মীম নরম গলায় মনে করিয়ে দিচ্ছিল,
ম্যাম, এখানে লাল কালি হবে।
আলো চায়ছিল
আমার যেন কম কথা বলতে হয়,
সে আগেই তথ্যদাতাকে প্রশ্ন করছিল,
আমার নীরবতাকেই করে তুলছিল সহজ।
নুসরাত আমার সঙ্গে সঙ্গে
অভিভাবকদের মোটিভেট করছিল
প্রাথমিকেই সন্তান দিন,
এখানেই শুরু হোক পথচলা।
তারা সবাই দাঁড়িয়ে ছিল পাশে,
ডিসেম্বরের আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
আর আমার দৃষ্টি আটকে ছিল
সেই নতুন শিশুদের চোখে
যারা এখনো জানে না
তাদের সামনে কতটা জীবন অপেক্ষা করে আছে।
তখন মনে প্রশ্ন জাগল
এটা কি ডিসেম্বর আর জানুয়ারির মধ্যে বৈষম্য?
না, জানুয়ারি প্রতিশ্রুতির মতো,
ডিসেম্বর হিসাবের খাতা।
যারা হাঁটতে শিখেছে,
তারা আজ পথ দেখায়।
আর যারা হাঁটতে শিখবে,
তাদের দিকেই ঝুঁকে পড়াই শিক্ষকতা।
আমি একটা সুন্দর জানুয়ারি চাই
যেন ডিসেম্বরে গিয়ে
প্রাপ্তির ঝুলিটা আলোয় ভরে।
অন্তত কোনো কাজের জন্য
কষ্ট আর আফসোস না থাকে,
শুধু শান্ত এক তৃপ্তি বলুক
আমি আমার কাজটা সৎভাবে করেছি।
তবুও আমরা জানুয়ারির দিকেই তাকিয়ে থাকি
কারণ মানুষ অতীত জানলেও
আশা খোঁজে ভবিষ্যতেই।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬