রাশেদ ইসলাম, জয়পুরহাটঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট জেলার দুইটি আসনে রাজনীতির মাঠে এখন সরব তৎপরতা। দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞ মুখের পাশাপাশি এবার নির্বাচনী অঙ্গনে যুক্ত হয়েছেন একেবারে ভিন্ন পেশা ও জীবনের প্রতিনিধি—ভ্যানচালক ও দিনমজুর ঈসা আলেক। ফলে প্রার্থী তালিকার বাইরেও জয়পুরহাটে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২—এই দুই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, বাসদ ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে জয়পুরহাট-১ আসনে ৮ জন এবং জয়পুরহাট-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।
জয়পুরহাট-১ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহকারীরা
জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়েতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন সুলতান মো. শামসুজ্জামান। বাসদ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ওয়াজেদ পারভেজ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন শহরের বুলুপাড়ার আকাম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে জালাল উদ্দিন মণ্ডল, সদর উপজেলার কড়ই পশ্চিমপাড়ার আব্দুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে আতাউর রহমান, পাঁচবিবি উপজেলার দানেজপুরের সাবেকুন নাহার সিখা এবং পাঁচবিবির শিরট্টী এলাকার হাসান আকতারের ছেলে—ভ্যানচালক ও দিনমজুর ঈসা আলেক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় রাজনীতির অভিজাত বৃত্তের বাইরে থেকে উঠে আসা ঈসা আলেকের প্রার্থিতা জয়পুরহাটের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে ও দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করা ঈসা আলেক নিজেকে তুলে ধরছেন “সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি” হিসেবে। স্থানীয় মহলে আলোচনা রয়েছে—ক্ষমতা ও অর্থের রাজনীতির বাইরে তার এই সাহসী অবস্থান অনেক ভোটারের মনে নাড়া দিয়েছে।
স্থানীয় ভোটার রাজ্জাক বলেন,
“ঈসা আলেক আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে। সে যদি সংসদে যেতে পারে, তাহলে সত্যিই গরিবের কথা কেউ বলবে।”
জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থীরা
জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক সচিব আব্দুল বারী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়েতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম।
এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর ইউপির ধানতলা গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ও বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা আব্বাস আলী, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ও আক্কেলপুর উপজেলার গনিপুর গ্রামের নায়েব উদ্দিনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম এবং একই গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আমিনুর ইসলাম।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ২৯ ডিসেম্বর। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
এছাড়া আগামী ২৫ ডিসেম্বর জেলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ জন।
জয়পুরহাটের এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় শক্তির হিসাব নয়—বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব কতটা জায়গা পায়, তারও এক বড় পরীক্ষা। সেই প্রশ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন ভ্যানচালক ঈসা আলেক। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬