মো. মুনজুর আলম, স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার রূপসা উপজেলার ৫ নম্বর ঘাটভোগ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে পূর্বের সালিশ-মীমাংসা ও লিখিত অঙ্গীকারনামা উপেক্ষা করে মনোয়ারা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার ওপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং জমির গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী তোরাব আলী শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পুনরায় মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪২) গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর গ্রামের মৃত মোল্লা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার প্রতিবেশী তোরাব আলী শেখের দীর্ঘদিন ধরে ক্রয়সূত্রে পাওয়া শিয়ালী মৌজার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগে তোরাব আলী শেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তোরাব আলী শেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ধারালো করাতসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা জোরপূর্বক একটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেন এবং আরও ২-৩টি গাছ ভেঙে ক্ষতিসাধন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মনোয়ারা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তোরাব আলী শেখ তাঁর দিকে করাত ছুড়ে মারেন। তবে তিনি সরে যাওয়ায় করাতটি মাটিতে পড়ে। পরে অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগেও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মনোয়ারা বেগমের ছোট ছেলে রহমত বিন রাজ্জাক ওরফে অয়ন (২৮)-কে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে মামলাটির নম্বর সিআর ৪৭৪/২৫ (রূপসা) এবং দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৮৮/৩৮৬/৩৮৭/৪০৬(২) ধারার উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, আগের বিরোধের পর ৫ নম্বর ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচারের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নোটারি পাবলিক, খুলনার কার্যালয়ে একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদিত হয়। ওই অঙ্গীকারনামায় অভিযুক্ত চার ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অঙ্গীকারনামায় ভবিষ্যতে একই ধরনের বিরোধে না জড়ানো এবং অয়ন রহমত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না যাওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অঙ্গীকারনামা ও পূর্বের সালিশের পরও নতুন করে হামলা, গাছ কেটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনার পর মনোয়ারা বেগমের বড় ছেলে তৌহিদুল ইসলাম পুনরায় ৫ নম্বর ঘাটভোগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্তদের কেউই আলোচনায় বসতে রাজি হননি। এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেও একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এ অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তৌহিদুল ইসলাম। অভিযোগে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং একের পর এক ঘটনার কারণে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধা মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাঁরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তোরাব আলী শেখসহ অন্যদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে এলাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর বা রক্তক্ষয়ী ঘটনার সৃষ্টি না হয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। নির্বাহী সম্পাদক: আশিক খান নিতু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-907221
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬