এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নিয়ামতপুরে সম্প্রতি দিনে রাতে চুরির ঘটনা বাড়ছে দিন দিন। এ নিয়ে মানুষের মনে উদ্বিঘœ দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাসে এসব চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ব চোরের দলের কোন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এতে করে জনমনে চুরি আতংক বাড়ছে।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মহিশো গ্রামের মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মালিকের ফাঁকা বাড়ি পেয়ে সুযোগ বুঝে মাটির দেয়ালের ঘরের জানালার নিচে সিঁধ কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় তারা নগদ টাকা, ব্যবহৃত পোষাক, কাসার জিনিসপত্র ও খাবার সামগ্রী (চাল,ডাল,তেল) চুরি করে নিয়ে যায়। এলোমেলে করে রেখে যায় জমির দলিলপত্র খাজনা খতিয়ান। চুরির ঘটনায় মাজাহারুলের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম থানায় অভিযোগ দিলে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক।
চুরির ঘটনায় অভিযোগকারী মাজহারুলের বড় ভাই জাহিদুল জানান, তার ছোট ভাই চিকিৎসাজনিত কারনে দেশের বাহিরে অবস্থান করছে। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে চোরেরা চুরির ঘটনা ঘটায়। তার দৃষ্টিতে চুরির ঘটনাটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত মনে হচ্ছে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, চোরেরা কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেলেও রহস্যজনকভাবে জমি-জমার কাগজপত্র তচনছ করেছে, ছড়িয়ে ঝিটিয়ে রেখেছে তারা। সন্দিহান দৃষ্টিতে তিনি বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে, তার খড় পালায় আগুন দেয় কে বা কাহারা। সেই সময় তার ভাইয়ের প্রাইভেট কারটি খড় পালার পাশেই পার্কিং করা ছিল। নেহাত ভাগ্যক্রমে অনিগ্নকান্ডের ঘটনা জানাজানি হলে রক্ষা পায় প্রাইভেট কারটি। তার ধারনা কৌশলে গাড়িটি পুড়িয়ে ভাইয়ের ক্ষতি করতে চেয়েছিল দূর্বৃত্তরা। তিনি মনে করেন অনিগ্নকান্ডের সাথে চুরির যোগসুত্র থাকতে পারে।
অপর এক ঘটনায় ২২ জুন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের দামপুরা (ঘোলাপুকুর) গ্রামের রোনজুর বাড়ি ফাঁকা পেয়ে ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে চোরেরা প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা, ১টি ফ্রিজ, পানি সেচের মটর, ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি সোফাসেট, ৫াট বিদেশী কম্বল, কাসার থালা-বাসনসহ অন্যান্য গৃহস্থালী সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ করেও কোন কিছু উদ্ধার হয়নি রোনজুর।
এর আগে একই ইউনিয়নের টগরইল গ্রামের মুনিমুল নামের এক শিক্ষকের বাড়ি ফাঁকা পেয়ে দিনে দুপুরে তালা ভেঙ্গে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত দুই লক্ষ টাকা ও আট ভরি স্বর্নসহ আরো কিছু জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। থানায় অভিযোগ দেয়া হয়, পুলিশ আসে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি জানান ভুক্তভোগী মুনিমুল।
চুরির ঘটনায় নিয়ামতপুর থানার ওসি মাববুবুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।