মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর মামলার বাদী মোছা. লাবলী আক্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ লাবলী আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা) গ্রামের লাবলী আক্তার (২৮) একই এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের (৩২) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নম্বর ৯৩/২০২৫ হিসেবে রেকর্ড হয়।
মামলার অভিযোগে লাবলী আক্তার দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ সাদ্দাম হোসেন তাকে নুরুল ইসলামের ভুট্টাখেতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পরে মামলাটি তদন্ত করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রতিবেদন দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় সাদ্দাম হোসেনকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঠাকুরগাঁওকে নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তেও অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামি সাদ্দাম হোসেনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে লাবলী আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭(১) ধারায় অপরাধ আমলে নেন আদালত। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
রোববার লাবলী আক্তার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।