বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথের লামাকাজি ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আতংকে ভুরকি ও ইসবপুর গ্রাম বেশিভাগ বাড়িতে এখন পুরুষ শূণ্য। সংঘর্ষে লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলাকারী ইসবপুর গ্রামের দুই সহোদরকে গত সোমবার বিকেলে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, আব্দুল মন্নান সরকার ও তাজ মিয়া। তারা দু’জনই ইসবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মস্তানের পুত্র। দুই গ্রামাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার ভূরকি গ্রামের আহত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষে ভূরকি গ্রামের মদরিছ আলীর ছেলে কবির আলী বাদী হয়ে ১৭জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০/৫০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি রেখে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৭। আটককৃত দুইজন এ মামলার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার ইশবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ওলিউর রহমান জনি (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে তাজ উদ্দিন (৫৫), আব্দুল কালামের ছেলে বাচ্চু (৫০), মৃত আবরু মিয়ার ছেলে সফির মিয়া (৬৫), বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল গফ্ফার (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে আব্দুল হান্নান সরকার (৬৫), আব্দুস সালােেমর ছেলে সেজু (২৫), বাচ্চু মিয়ার ছেলে পারভেজ (২৫), আব্দুল মন্নানের ছেলে বাবলু (২৩), আনা মিয়া মেম্বারের ছেলে আওলাদ (৫০), আছাবরের ছেলে আখতার হোসেন (২৮), আলী হোসেন (৩৭),মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া (৪৫), আব্দুল মন্নান সরকারের ছেলে মিজান (২২), কুরশিদের ছেলে সমুজ (৪৫), মৃত আলকাছ আলীর ছেলে কয়ছর (৩০), আলমাছ আলীর ছেলে আল-আমিন (২৮)।
এদিকে আহত ইউপি চেয়ারম্যানের খোঁজ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
অন্যদিকে কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের একাংশের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ এক গত সোমবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার উপর ন্যাক্কারজনক হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে আগামী ৪৮ ঘন্টার পর মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি প্রদান করা হবে, তখন এর দায়ভার প্রশাসনকে বহন করতে হবে। বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শালীস ব্যাক্তিত্ব কবির হোসেন ধলা মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ লামাকাজী ইউনিয়ন শাখার সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক অলিউর রহমান জনির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধ হয়ে যে বর্বরোচিত হামলা করেছে আমরা বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষ মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় প্রথমে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার এজাহারে আটককৃত দুইজন কে আসামি করা হয়েছে। ফলে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় এড়াতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার দুপুরে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের ভূরকি ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধদের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভূরকি গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও ইশবপুর গ্রামের সফির আলীর লোকজনের মধ্যে ভূরকি বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনন্ত ৩০জন আহত হন। এরই মধ্যে গুরুতর আহত ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।