• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লেখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ জিয়া সাইবার ফোর্স (ZCF) উত্তরা পূর্ব থানা কমিটির নতুন আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন শিলু সিলেটের খাজাঞ্চী মডেল কলেজ কর্তৃক এবারের এসএসসি ও দাখিল কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সিংড়ায় সামাজিক কল্যাণে সরকারি অনুদানের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান: সিংড়ায় অনুদানের চেক হস্তান্তরিত প্রতিমন্ত্রী পুতুল শেরপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মূল হোতা ওষুধ ব্যবসায়ী হিমু গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ এশিয়ান পুলিশ স্পোর্টস কাউন্সিলের উপদেষ্টা মনোনীত শামীমা পারভীন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চমক, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় নতুন নাম আবদুস সামাদ আজাদ রাঙ্গাটুঙ্গীর নারী ফুটবলারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লার ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

জুলাই বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র সংস্কারে প্রকৌশলীদের ভূমিকা” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

Reporter Name / ৩৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

আয়াত উল্ল্যাহ, ঢাকা:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঢাকা কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনের সোস্যাল গার্ডেনে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। “জুলাই বিপ্লবোত্তর রাষ্ট্র সংস্কারে প্রকৌশলীদের ভূমিকা (প্রকৌশল, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষ শ্রমশক্তি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার সমন্বিত রূপরেখা)” শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সংগঠন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি)।
সেমিনারে বক্তারা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং রাষ্ট্র সংস্কারে প্রকৌশলীদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও অতিথিদের উপস্থিতি
সেমিনারে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন:

প্রধান অতিথি: জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি (সম্মানিত কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, এফডিইবি)
বিশেষ অতিথি: কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেন, এমপি (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ)
বিশেষ অতিথি: প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, এমপি (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ)
বিশেষ অতিথি: ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি)
প্রধান আলোচক: ড. খ ম কবিরুল ইসলাম (সাবেক সিনিয়র সচিব, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়)
কী-নোট স্পীকার: অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ (কারিগরি শিক্ষা)

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও ধারণাগত কাঠামো
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ (Key-note) উপস্থাপন করেন কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ। তাঁর উপস্থাপিত প্রবন্ধটি মূলত দুটি প্রধান পরিসরে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম পরিসর: ‘জুলাই বিপ্লব’ ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ এবং ‘দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা’—এই তিনটি প্রধান শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
দ্বিতীয় পরিসর: সমৃদ্ধ জাতিরাষ্ট্র গঠন তথা একবিংশ ও সম্মুখ বাংলাদেশের বিনির্মাণে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকেন্দ্রিক প্রকৌশল খাতের ভূমিকা। একই সাথে দক্ষ ও শ্রেণিবিন্যস্ত (Skilled and Classified Workforce) শ্রমশক্তি সম্বলিত মানবসম্পদ উন্নয়ন কাঠামোর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, কোনো বিপ্লবের সাফল্য কেবল শাসক পরিবর্তনে নয়, বরং রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও political বা রাজনৈতিক সংস্কৃতির টেকসই রূপান্তরের মধ্যেই নিহিত থাকে। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ — বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি-অভিযাত্রার এই তিনটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দী নয়, বরং একটি ধারাবাহিক আত্ম-প্রকাশের পর্ব। জুলাই বিপ্লব হলো সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায়, যার সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত রাষ্ট্র-সংস্কার, সাংবিধানিক পুনর্গঠন, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।

আবদুর রফিকের রাষ্ট্রসংস্কার ও মানব সম্পদ উন্নয়ন কাঠামো
সেমিনারে জ্ঞানতাপস আবদুর রফিক (১৯৪১-২০২৩)-এর প্রায়োগিক গবেষণার আলোকে একটি দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। তিনি দেশের ১৬.৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১২.৬ কোটি কর্মক্ষম শ্রমশক্তিকে বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF)-এর আওতায় উন্নয়নমুখী, দক্ষ ও শ্রেণিবিন্যস্ত আকারে রূপান্তরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন।
মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা (পরিসংখ্যান):
উচ্চতর স্তর (৭-১০): নীতি নির্ধারক, নির্বাহী/প্রকৌশলী-প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবস্থাপনা প্রধান (হার: ৭-৮, পরিমাণ: ৯.৬
মধ্যম স্তর (৪-৬): মধ্যমস্তরের কারিগরি জনশক্তি (হার: ৬৫, পরিমাণ: ৭৯
মৌলিক দক্ষ স্তর: মৌলিক/আধা দক্ষ/অনানুষ্ঠানিক দক্ষ শ্রমশক্তি (হার: ২৭%, পরিমাণ: ৩২.৫

এছাড়াও শাসনকার্যের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশের বিদ্যমান ১৩টি অর্থনৈতিক সেক্টর ও মন্ত্রণালয়গুলোকে পুনর্বিন্যাস করে ৪টি প্রধান সেক্টর কাউন্সিল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
১. সেবা খাত: প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সামাজিক সেবা।
২. উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত: শিল্প, নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ, বস্ত্রশিল্প এবং সেবা সংস্কার।
৩. কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য খাত: ফসল উৎপাদন, পশুপালন, মৎস্য খাত এবং চামড়াজাত পণ্য।
৪. তথ্যপ্রযুক্তি (ICT) খাত: প্রোগ্রামিং, গবেষণা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক পণ্য ও সেবা।

একবিংশ শতকের দক্ষতা এবং ‘6T’ চালিকাশক্তি
সেমিনারে একবিংশ শতকের পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে “6T” প্রযুক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে:
IT (Information Technology)
BT (Bio-Technology)
NT (Nano Technology)
ET (Environment Technology)
CT (Culture Technology)
ST (Space Technology)
২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, আইসিটি সাক্ষরতা, জীবন দক্ষতা এবং STEM দক্ষতাকে শিক্ষা কাঠামো পুনর্গঠনে অন্তর্ভুক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়। ২০১৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে STEM গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যায় চীন (৪.৭ মিলিয়ন) ও ভারত (২.৬ মিলিয়ন) শীর্ষে রয়েছে। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশেও এই গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।

শাসনকার্য পুনর্গঠনে ২২টি আইনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা
সেমিনারে শাসনকার্যের পুনর্গঠন ও সংস্কার সাধনে সর্বমোট ২২টি আইন/অর্ডিন্যান্স প্রণয়ন ও সংশোধনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা উপস্থাপন করা হয়:
১. সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আইন (PRAA)
২. দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য ওমবাড বা ওমবাডসম্যান আইন
৩. সরকারি কর্মচারী আইন (দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ)
৪. শিক্ষার অধিকার আইন (RTEA – ১২ বছরের শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ)
৫. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইনের সংশোধন
৬. ইউজিসি অর্ডিন্যান্স এবং সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন
৭. জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) আইন ২০১৮ সংশোধন
৮. প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা কাউন্সিল আইন (TVEC) [১৯৬৭ সালের কারিগরি শিক্ষা আইন এবং ২০১৮ সালের বিটিইবি আইন প্রতিস্থাপন]
৯. শ্রমশক্তি কর্মসংস্থান আইন (২০০৬ সালের শ্রম আইন প্রতিস্থাপন)
১০. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) আইন
১১. শিক্ষানবিশ আইন প্রণয়ন/সংশোধন (২০১৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইন প্রতিস্থাপন)
১২. বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড আইন সংশোধন
১৩. বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিল আইন/অর্ডিন্যান্স ১৯৭৩ সংশোধন
১৪. বাংলাদেশ নদী গবেষণা আইন ১৯৯০ সংশোধন
১৫. বাংলাদেশ মান পরীক্ষা ইনস্টিটিউট আইন/অর্ডিন্যান্স সংশোধন বা প্রণয়ন
১৬. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন সংশোধন বা প্রণয়ন
১৭. বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন সংশোধন বা প্রণয়ন
১৮. বাংলাদেশ আতিথেয়তা ও হোটেল সেবা ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন
১৯. প্রবাসী শ্রমশক্তি আগমন ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন
২০. বাংলাদেশ বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন
২১. বাংলাদেশ সামুদ্রিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন
২২. বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (ICTA) ২০০৬ সংশোধন

শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা ও সমাধানের ১৫ দফা সুপারিশমালা
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতাকে ৩টি মাত্রায় (শ্রম, মূলধন ও বহুগণক উৎপাদনশীলতা) পরিমাপ করতে হবে। একবিংশ শতকের চাহিদা পূরণে দেশের ১৬৫ মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে শ্রেণিবিন্যস্ত করতে সেমিনারে কৌশলগত ১৫ দফা সুপারিশমালা পেশ করা হয়। যার মধ্যে শিক্ষক ও গবেষকদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল (NSDC) পুনঃপ্রবর্তন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইউজিসি অধ্যাদেশ সংশোধন, এবং শিক্ষা ও গবেষণার জন্য জিডিপি’র সুনির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণের বিষয়গুলো অন্যতম।

কারিগরি খাতের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ
সেমিনারে দেশের কারিগরি খাতের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে সৃষ্ট সংকট এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কিছু তীব্র সংকট ইতিবাচক সংস্কারের লক্ষ্যে চিহ্নিত করা হয়:
কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স সম্ভাবনা: ফরমাল সেক্টরে পলিটেকনিক গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, জনশক্তিকে দক্ষ ও ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ উপযোগী করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৫ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
অবকাঠামো ও জ্বালানি পরিকল্পনা: দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত টেকসই সিভিল ও ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্যুৎখাত এবং প্রধান শহরগুলোর জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকট দূর করা সম্ভব।
কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক সংকট: ২০৩০ সালের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা (TVET Enrolment ৩০% এ উন্নীতকরণ) অনুযায়ী সম্ভাব্য ৮.১ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর জন্য ১:১২ অনুপাতে প্রায় ৬.৭৫ লাখ শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১.১৯ লাখ শিক্ষক, অর্থাৎ অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫.৫৬ লাখ দক্ষ শিক্ষকের পদ পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংকট নিরসনে সমসাময়িক দুটি সরকারি কমিটি
সেমিনারে কারিগরি খাতের সংকট নিরসনে গঠিত সমসাময়িক দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কমিটির অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়:
১. ড. খ ম কবিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বাধীন কমিটি: শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কারিগরি শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবী সম্বলিত বিষয় নিরসনে গঠিত কমিটি।
২. আতাউজ্জামান কবির এর নেতৃত্বাধীন কমিটি: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের দাবী নিরসনে গঠিত কমিটি।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সংকটের ‘সমাধানের পথ’
সেমিনারে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সাথে প্রাথমিক আলোচনার সূত্র ধরে সংকটের মূল কারণ ও সমাধানের সুনির্দিষ্ট পথ ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়। গতানুগতিক চিন্তার বাইরে এসে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা এবং প্রচলিত বৃত্তের বাইরে গিয়ে প্রকৌশলীদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কৌশলগত নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রচলিত শিল্প কারখানার জন্য ‘ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট’ ও ‘শিক্ষানবিস আইনের’ আধুনিকীকরণ অন্যতম।

উপসংহার ও ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়
সেমিনারের সমাপনীতে বিশ্বব্যবস্থা ও উন্নত রাষ্ট্রের ভালো উদাহরণগুলোর অনুসরণ, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জুলাই বিপ্লবের বৈষম্যহীন রাষ্ট্রনীতির চেতনাকে ধারণ করে একটি দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রক্রিকায় প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষাকে সমন্বিত ও অবিভাজ্য অংশ হিসেবে গণ্য করার ঐকমত্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিপ্লবের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যমত্য (National Consensus) গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তরের সদিচ্ছাই জুলাই বিপ্লবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুল সংখ্যক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, কারিগরি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে নিজেদের নিয়োজিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd