আব্বাস উদ্দিন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও মতবিনিময় সভা শেষ হয়েছে।
ধারাবাহিক এসব সভা শেষ হওয়ার পর এখন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কে পাচ্ছেন দলীয় টিকিট আর কে ছিটকে পড়ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার পদুয়া, আমিরাবাদ ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাগুলোতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এসএম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সালাহউদ্দিন চৌধুরী সোহেল ও ফৌজুল কবির ফজলু।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এসব সভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং নিজ নিজ এলাকায় জনসমর্থনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে যোগ্য, ত্যাগী ও জনসমর্থনসম্পন্ন প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে বিএনপির গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি এসব সভার আয়োজন করে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের দুঃসময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন এবং এলাকায় যাদের জনসমর্থন রয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। যোগ্য প্রার্থী মনোনীত হলে তাঁর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে ৯টি ইউনিয়নে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অপেক্ষা ও কৌতূহল বেড়েছে। কোন ইউনিয়নে কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, কার সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী এবং শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটছে ধানের শীষের সমর্থন—এসব প্রশ্ন এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাবে। যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী হবে। তবে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে তার প্রভাব নির্বাচনে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে লোহাগাড়ার ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।