• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু হবে ১৮ মাসের মধ্যেই আইয়ূবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নবনির্মিত মসজিদ ও অবকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন খুলনায় তুষার হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি আরিফ গ্রেপ্তার যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিমলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সি ইউ সি, খুলনার উপদেষ্টা ইফতেখার আলী বাবুর ইন্তেকালে গভীর শোক চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত জগন্নাথপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় আরেকজনের মৃত্যু, গ্রেফতার ৪ পূর্বধলায় তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন পাঁচবিবিতে স্কুল ছাত্রী পেল বাইসাইকেল ও শিক্ষা সামগ্রী ধামইরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লেখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ

Reporter Name / ১১২ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় রিয়াদ মসজিদের ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সাথে বিদ্যুতায়িত হয়। কেটে ফেলতে হয় দুই হাত।

কিন্তু সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তাঁকে। মুখ দিয়েই লিখে একের পর এক পরীক্ষায়
সাফল্য অর্জন করে এবারে দাখিল পাশ করেছে রিয়াদ। জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এখন তার স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া। রিয়াদের এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে অনেককেই।
রিয়াদের বাড়ি উপজেলার বালিচাঁদ গ্রামে। বাবা দিনমজুর। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে রিয়াদ বড়।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। গ্রামের মধ্যে বালিচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকেরা রিয়াদকে আলাদা ভাবে দেখতেন। এরপর গ্রামের পাশে বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে এ বছর (২০২৬ সালে) দাখিল পাশ করে জিপিয়ে ২.৯৪ গ্রেডে।

বর্তমানে মুখ দিয়েই লেখালেখি থেকে শুরু করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন রিয়াদ। শুধু পড়াশোনাই নয়, সংসারের দৈনন্দিন কাজেও তিনি অন্যদের ওপর নির্ভরশীল নন রিয়াদ।শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সে।
রিয়াদ জানায়, ‘এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া। শিক্ষকতা তার সবচেয়ে পছন্দের পেশা। এমন অদম্য সাধন করার জন্য মুখে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলি। সেজন্য এখন আমাকে আরও বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে হবে। লেখাপড়া শেষে চাকুরী করে এই পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

রিয়াদের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। ছেলের এক্সিডেন্টর পর সুস্থতার জন্য আমার একটি ভুটভুটি ছিলো তাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন অনেক কষ্ট করে দিনমজুরি করে ছেলে দুটাকে ভালো মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, রিয়াদ লেখাপড়া শেষ করে সরকার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়, তাহলে তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হবে।’

বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল আলম বলেন, ‘রিয়াদ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। দুই হাত না থাকলেও মুখ দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় যে সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জীবনের প্রতিটি বাধাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলেছেন রিয়াদ হাসান। দাখিল পাশ কারার পর এখন তার চোখ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে। তার বিশ্বাস, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd