সুখের সেই দিনগুলো
সুখের সেই দিনগুলো,
দারুণ ছিলো ভালো।
মনে কষ্ট ছিলো না অত,
মুখে হাসির আলো।
একতাবদ্ধ থাকতো সবাই,
নয়তো কারোর দ্বিমত।
এক কথা মানতো তারা,
নাই তো কারোর অমত।
ক্ষেত খামারে করত কাজ,
নিজ যত্ন করে।
কাজের মাঝে আনন্দ পেত,
বেলা যেত গড়ে।
গানের আসর জমতো বেশ,
দেওয়ান বাড়ির উঠানে।
আনন্দেতে মাততো সবাই,
আউল বাউল সেই গানে।
যাত্রা পালা, পালা গান,
জাবি সারি মারফতি।
আরো অনেক অজানা গান,
ভাটিয়ালি আর মু্রশিদি।
সন্ধ্যা হলে গরম কালে,
টঙ ঘরেতে বসে।
মজার মজার গল্প জুড়ে,
অতীত ইতিহাস চষে।
দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনা,
নিতাম সবাই ভাগ করে।
সুখের সেই দিনগুলো আজ,
খুব যেন মনে পড়ে।
দুখু মিয়া নজরুল
ছোট্ট বেলায় দুখু মিয়ার
ছিলো অনেক দুঃখ.
কষ্টে তাঁহার দিন কেটেছে,
ছিলো নাতো সুখ।
দরিদ্র ঘরে জন্ম দুখুর,
দুঃখ বেদনা ভরা।
সৎ সাহসী মিষ্টি দুখুর,
ন্যায়ের পথে গড়া।
দুখুর ঘরে কেটেছে দুখু,
ভবঘুরে পথে পথে।
দুঃখ তাঁহার যায়না দুরে,
সারথি দুখুর রথে।
দুঃখ কষ্টে জীবন গড়ে,
দুঃখের লেখে গান।
বিশের বাঁশি রিক্তের রেদন,
দুখুর লেখা অবদান।
দুখুর ছিলো বড় মাথা,
ঝাকড়া তাঁহার চুল।
মলিন মুখের ছবিখানা যে,
দুখু মিয়া নজরুল।
শরৎ এলে মেঘ হাসে
শরৎ এলে মেঘ হাসে,
নীল আকাশের কোলে।
নদীর কুলে শিউলি ফুল,
হাওয়ায় দোলে দোলে।
মাঝি ভাই নাও ভাসিয়ে,
দুর দেশে দেয় পারি।
বিলে বিলে উড়ছে আজি,
সাদা বকের সারি।
পাখিরা উড়ে নদীর কুলে,
দুটো ডানা মেলে।
গাঙচিলের দল ডানা বেঁধে,
নদীর বুকে খেলে।
শরৎ এলে অপরুপ শোভা,
সবুজের ঢেউ বয়।
শরৎ এলে মুক্ত হাওয়ায়,
মনটা সতেজ হয়।
দেশের কথা বল্লে
দেশের কথা বল্লে যদি,
হয়ে যায় এখন দোষ।
তবে কি ভাই চুপ রব,
এটাই বড় আপচোষ?
দেশটা হল স্বাধীন দেশ,
নগদ রক্তে কেনা।
স্বাধীন দেশে থেকে মোরা,
থাকবো কেনো দেনা?
রক্ত দিয়ে যাচ্ছে মানুষ,
পথে ঘাটে মাঠে।
রক্ত ঢেলে লাল করেছে,
শাপলা শালুক পাটে।
কোলের শিশু রক্ত দেয়,
নারী পুরুষ রক্ত দেয়।
রক্ত দিতে দিতে যেন তারা,
প্রাণ টা ঢেলে দেয।
দেশটা হল স্বাধীন দেশ,
কতো রব আর চুপ?
দেশের তরে বলবো কথা,
তুই চুপ তুই চুপ চুপ।
দেশটা হল আমার তোমার,
দেশটা হল সবার।
এই দেশেতে বুনো শকুনেরা,
এসেছে উড়ে আবার।
এ দেশ আমার জন্মভূমি,
এ দেশ আমার মা।
মায়ের পক্ষে বলবো কথা,
চুপ কখনো রবো না।