লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ আজ আর বিলাসিতা নয়, নাগরিক জীবনের অপরিহার্য সেবা। অথচ সেই সেবার বিল যখন বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না, তখন তা শুধু আর্থিক চাপই সৃষ্টি করে না, বরং মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। সম্প্রতি লোহাগাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কথিত ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, মাসের পর মাস স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও হঠাৎ কয়েক গুণ বেশি বিল এসেছে। কেউ বলছেন মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি, কেউ অভিযোগ করছেন অনুমাননির্ভর বিল তৈরির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এমন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তারা অফিসে ঘুরছেন, অভিযোগ করছেন, কিন্তু দ্রুত সমাধান না পাওয়ার হতাশাও প্রকাশ করছেন। একটি গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকের প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত সেবা। বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে গ্রাহকের ভুল ধরে নেওয়ার প্রবণতা নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে মিটার পুনরায় পরীক্ষা, বিল সংশোধন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বিল তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নির্ভুল করার উদ্যোগও জরুরি।
লোহাগাড়ার এই ঘটনা শুধু একটি এলাকার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সেবা ব্যবস্থাপনার মান, গ্রাহকসেবা এবং জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে দেওয়া সেবায় যদি বারবার প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ শুধু আলো জ্বালায় না, মানুষের বিশ্বাসও বহন করে। তাই ‘ভুতুড়ে বিল’-এর অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা এখন সময়ের দাবি। গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতেই বিল পরিশোধ করতে পারেনএটাই একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক দায়িত্ব।