মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ওষুধের দোকান থেকে চুরি হওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত অভিযানে চুরি যাওয়া ওষুধ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বিসিক মোড়ের দবিরুল মার্কেটে অবস্থিত ‘সৌহার্দ্য ফার্মেসি’তে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের দামি ওষুধ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া ওষুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ফার্মেসির মালিক কল্যান চন্দ্র দেবনাথ (৩৮), পিতা—ইরেন্দ্র দেবনাথ, সাং—কেশুরবাড়ী, থানা—ভূল্লী, ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। ডিবি অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুল কাজল ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাজাহান আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাজু মিয়া (৩২), জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০) ও মো. বিল্লাল হোসেনকে (৫৫) শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২৯ সেপ্টেম্বর বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরি করা ওষুধ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার শিখর চন্দ্র সরকার (৩০)-এর কাছে বিক্রি করার তথ্য দেন।
তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিখর চন্দ্র সরকারকে তার নিজ দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারে তার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ফার্মেসির মালিকের শনাক্ত অনুযায়ী চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে রাজু মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেন আন্তঃবিভাগীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
এদিকে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে জেলা পুলিশের প্রতি সন্তোষ ও প্রশংসার কথা জানা গেছে।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।