গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
“যার কাছে বিদ্যালয়ই ছিল ঘর, শিক্ষার্থীরাই ছিল পরিবার”-
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ শহীদের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার) বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আতাউর রহমান।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-কর্মচারী ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদায়ী অধ্যক্ষকে সম্মাননা জানানো হবে।
এদিকে, ৩১ অক্টোবরের বিদায় সংবর্ধনা ছাড়াও আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আরও একটি বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওই অনুষ্ঠানেও সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।
অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ শহীদ দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকতা করে আসছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সমাজ উন্নয়নেও অসামান্য অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা ও অবদান স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের আগে তিনি কর্মজীবনের শুরুতে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আরও দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে দীর্ঘ সময় পশ্চিম জাফলং এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেন।
মো. আব্দুছ শহীদ গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের ছেলে মেহেদী হাসান সৌরভ ও মেয়ে জাকিয়া তাসনিম শর্মী।
দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তিতে তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর কাছে বিদায় সংবর্ধনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একজন শিক্ষকের বিদায় শুধু কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান, স্মৃতি ও আদর্শকে স্মরণ করারও উপলক্ষ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।