মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার:
সেনা সদস্যের পরিচয়ে হুমকির দাবি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক ব্যক্তি ও তাঁর ছোট ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ঘরে ঢুকে নগদ টাকা লুট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের পরিবারের কিছু সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত এমন পরিচয় দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ফকিরহাট উপজেলার ধনপোতা গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মিরাজুল ইসলামের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আহত ব্যক্তি ফকিরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে ধনপোতা গ্রামের মো. আলমগীর শেখ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে মিরাজুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষের অনমনীয় আচ্যের কারণে কোনো সমাধান হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরাজুল ইসলাম নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায় বিবাদীরা অকারণে গালিগালাজ শুরু করেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁরা অনধিকার প্রবেশ করে তাঁকে কিল, ঘুষি ও লাঠিপেটা করেন। এ সময় ১ নম্বর অভিযুক্ত রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ বসালে তা মিরাজুলের বাম কনুইয়ে লেগে গুরুতর জখম হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলাকারীরা এ সময় তাঁর কাঁচামাল ব্যবসার নগদ ৪৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভাইকে বাঁচাতে ছোট ভাই রবিউল ইসলাম এগিয়ে এলে তাঁকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফকিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেনা সদস্যের পরিচয় দিয়ে হুমকির অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের পরিবারের দুই সদস্য বাংলাদেশ সশস্ত্র সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা ছুটিতে বাড়িতে এসে বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন।আমরা সেনাবাহিনীতে চাকরি করি, তোদের সেনাবাহিনী দিয়ে দেখে নেব এমন কথা বলে তাঁরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ফেসবুকেও বিভিন্ন ধরনের হুমকিমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।আরো বলা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যারা চাকরি করেন তাদের নামে মামলা করা হয়েছে তার নাম্বার মিছ ১৩/২৬ নম্বর।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।