• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সিংগাইরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন পূর্বধলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন, ফুটবলে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জয় বিশ্বনাথে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের বিদায় সংবর্ধনা অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই—– অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্ট্রিটলাইট ও সড়ক নির্মাণ থানচিতে শিশু অধিকার সপ্তাহের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন, দুই বিদ্যালয়ের শিরোপা জয় নীতিমালার বাইরে সার ডিলার নিয়োগে ব্যবস্থা- কৃষিমন্ত্রী ডিমলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাস্তা প্রশস্তকরণের দারুন উদ্যোগ, কমবে জলাবদ্ধতা-যানজট সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ৪

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক: উন্নয়নের পথ, নাকি মৃত্যুফাঁদ?

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে পর্যটননগরী কক্সবাজারকে যুক্ত করা এই রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি এখন অনেকের কাছেই “মৃত্যুফাঁদ” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক বছরে এই সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে, অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা ও আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে সড়কের নিরাপত্তায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।

এই দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়লেও সড়কের সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। একই সড়কে বাস, ট্রাক, ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল একসঙ্গে চলাচল করায় ঝুঁকি বেড়েছে বহুগুণ। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষ করে পর্যটনের মৌসুম, ঈদ কিংবা ছুটির সময় এই মহাসড়কে যানজট ও চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। এতে দ্রুত ও ধীরগতির যান আলাদা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, ওভারটেকিংজনিত দুর্ঘটনা কমবে এবং যান চলাচল হবে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ। পাশাপাশি সার্ভিস লেন, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস, আধুনিক সাইনেজ ও মিডিয়ান ব্যারিয়ার যুক্ত করলে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব।

কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটন শহর নয়, বরং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এই রুটে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই পরিকল্পিত উন্নয়ন না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা দুটো একসঙ্গে না চললে সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব নয়।

শেষ পর্যন্ত, উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পাবে যখন এই মহাসড়ক আর মৃত্যুর প্রতীক না হয়ে নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উদাহরণ হয়ে উঠবে। তাই এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd