স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলা সাহিত্যে অল্প শব্দে গভীর অনুভূতি প্রকাশের এক স্বতন্ত্র সাহিত্যিক চিন্তার নাম “এক পলকের কাব্য”। এই সাহিত্যচিন্তার প্রবর্তক শিহাব রিফাত আলম। মাত্র দুই লাইনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুভূতি, চিন্তা, জীবনবোধ, প্রেম, বিরহ, বেদনা, প্রতিবাদ কিংবা দর্শনকে শিল্পিতভাবে তুলে ধরাই “এক পলকের কাব্য”র মূল বৈশিষ্ট্য।
সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে তার চিন্তা, অনুভূতি প্রকাশের ধরন এবং মনোযোগের পরিসর। দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে মানুষ অল্প সময়ে তথ্য গ্রহণের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ অনুভূতির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সাহিত্যের একটি নতুন সংযোগ তৈরির ভাবনা থেকেই শিহাব রিফাত আলম “এক পলকের কাব্য”র ধারণা প্রবর্তন করেন।
এই সাহিত্যধারার দর্শন অত্যন্ত সরল, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। কবিতার শব্দ কম হবে, পরিসর হবে ছোট, অথচ তার অনুভূতি, ভাবনা ও অভিঘাত হবে গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী। অর্থাৎ কবিতা পড়তে সময় লাগবে মাত্র এক পলক, কিন্তু কবিতার অনুভূতি পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে অনেকক্ষণ।
“এক পলকের কাব্য” দীর্ঘ কবিতার বিকল্প নয়, আবার দীর্ঘ কবিতার বিরোধিতাও করে না। এটি বরং সাহিত্যের প্রকাশভঙ্গিতে একটি স্বতন্ত্র সংযোজন। দুই লাইনের সীমিত পরিসরের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ অনুভূতি বা ভাবনাকে এমনভাবে প্রকাশ করা, যাতে পাঠ শেষ হওয়ার পরও তার অর্থ ও অনুরণন পাঠকের মনে চলতে থাকে, এ সাহিত্যচিন্তার অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশ্বসাহিত্যে সংক্ষিপ্ত কবিতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। জাপানের হাইকুসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র কবিতার ধারা অল্প শব্দে গভীর অনুভূতি ও প্রকৃতির দর্শন প্রকাশের শক্তি দেখিয়েছে। সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সমকালীন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবন, সময়ের সংকোচন এবং মনোযোগের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে “এক পলকের কাব্য”কে একটি স্বতন্ত্র সমকালীন সাহিত্যিক চিন্তা হিসেবে সামনে এনেছেন শিহাব রিফাত আলম।
“এক পলকের কাব্য”র মূল দর্শন এক বাক্যে বলা যায়:
কবিতার পরিসর ছোট হতে পারে, কিন্তু তার অনুভূতির পরিসর হতে পারে অসীম।
এক পলকের কাব্য
হৃদয় ভেঙে গেছে
হৃদয় ভেঙে গেছে, তবুও উঠে দাঁড়াতে হবে,
কারণ তুমি কথা দিয়েছিলে, আসবে ফিরে।
শিহাব রিফাত আলম।