• সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
রাজশাহী রেঞ্জের ৮ জেলার মধ্যে আবারও শ্রেষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিশ্বনাথে মজিদ আম পল্লী ১ম মেধা বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন জগন্নাথপুরে হাজি আব্দুর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভীর নলকূপ সংস্কার রংপুরে আইনজীবীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ‎শ্যামা মায়ের আরাধনায় ময়মনসিংহে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ডিমলায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি সিংগাইরে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত নিয়ামতপুরে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত নেত্রকোণায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীর

Reporter Name / ১৫৬ Time View
Update : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত ও পূর্ণ রোগমুক্তির জন্য গভীর প্রার্থনা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির মহাসচিব ও উখিয়ার, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জননেতা এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে গণমাধমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রার্থনা করেন ।
বিবৃতিতে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে তার দ্রুত, পূর্ণ রোগমুক্তির জন্য গভীর প্রার্থনা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন চাপ ও কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি যে দৃঢ়তা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উজ্জ্বল অক্ষরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তার সুস্থতা কেবল তার নিজের দলের জন্য নয় বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষমতার ট্রানজিশনাল পর্যায়ে তার মতো অভিজ্ঞ নেত্রীর উপস্থিতি জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিবৃতিতে এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী আল্লাহর কাছে বেগম জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেন মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন, তার কষ্ট লাঘব করেন এবং সর্বোত্তম ব্যবস্থার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক মহাকাব্যের নারী উল্ল্যেখ করে আরো বলেন উপমহাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম যুগ পেরিয়ে আলো ছড়ায়। সেই আলোকিত নামগুলোর অন্যতম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং বাংলাদেশের বহুপ্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক কেন্দ্রবিন্দু তিনি। তার দৃঢ়তা, নীরব শক্তি এবং আপোষহীন নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিকে বহুবার নতুন পথ দেখিয়েছে।
রাজনীতিতে তার পদার্পণ কখনোই কেবল আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছিল না। ছিল ব্যক্তিগত শোক, রাষ্ট্রীয় সংকট, ষড়যন্ত্র আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টানা যুদ্ধ। স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর শোকের ভার নিয়ে রাজনীতির অগ্নিপথে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীতে জীবনের বার্ধক্যে থেকেও দূরত্বে অনুভব করেছেন প্রবাসী সন্তানের বেদনা; হারিয়েছেন আরেক সন্তানকেও।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে ঘিরে উঠেছিলো অপবাদ, ভুল ব্যাখ্যা ও কুৎসার বিস্তৃত ঝড়। দেশের ভিন্নমতাবলম্বী প্রজন্ম তাকে ঘৃণা করতে শেখানো হয়েছে বহু বছর। তবুও তিনি খুব কমই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার ভাষায় কথা বলেছেন। নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন তার শক্তি হিসেবে—এক নীরবতা যা প্রতিপক্ষকে বারবার বিস্মিত করেছে।
রাজনীতিতে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল আপোষহীনতা—যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডারেও নতুন অর্থ নিয়ে জায়গা করে নেয়। শুদ্ধতা, শালীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম স্তম্ভ।
তার নেতৃত্বে বিএনপি যে শিখরে উঠে আসে, তা অনেক বিশ্লেষকের মতে দলের সামগ্রিক সামর্থ্যের চেয়েও বেশি ছিল। দলটির অভ্যন্তরে তার সমপর্যায়ের নেতৃত্ব গড়ে না ওঠা—এটিকেই অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন তার রাজনৈতিক যাত্রার গভীরতম ট্র্যাজেডি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সময় ও পরিস্থিতি ভিন্ন হতো, তবে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও দেশের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় রচনা করতে পারতেন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা নিয়ে আজও গবেষণা ও আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
বর্তমানে শারীরিকভাবে তিনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেকে আশঙ্কা করছেন—যদি বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্থান ঘটে, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগের অবসান।
তার জীবনের উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও দৃঢ়তার পথচলা ভবিষ্যতের তরুণ প্রজন্মের কাছে রয়ে যাবে অনুপ্রেরণার এক নক্ষত্রখচিত পাঠ হিসেবে—যেখানে দেখা যাবে, এক নারী কীভাবে পুরো একটি জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখাতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd