মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের নিয়মিত অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) রানীশংকৈল উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন।
তিনি জানান, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ রাতে রানীশংকৈল থানাধীন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), পিতা- মৃত ইউসুফ আলী এবং মোছাঃ সীমা বেগম (৩২), স্বামী- মোঃ সনিবুল্লা ওরফে সালামকে। তাদের উভয়ের বাড়ি রানীশংকৈল উপজেলার কোচল এলাকায়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের দেখানো মতে তাদের হেফাজত থেকে ৬টি স্বর্ণের সদৃশ সোনালি রঙের মূর্তি, ৫টি কথিত পুরাতন (কাঁচা) কয়েন এবং ১টি পিতলের সদৃশ পুরাতন কলস উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান স্বর্ণের মূর্তি, পুরাতন কয়েন ও গুপ্তধনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে মূল্যবান প্রত্নবস্তু পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
থানার রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় রানীশংকৈল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন সাধারণ জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, স্বর্ণের মূর্তি, পুরাতন কয়েন বা গুপ্তধনের নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের প্রলোভনে বিশ্বাস করে আর্থিক লেনদেন করবেন না। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে কিংবা এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জেলা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।