গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন দুই ভাইসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে আজিজুর রহমান নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজ জমিতে কাজ করার সময় আজিজুর রহমানের ওপর হামলা এবং মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজিজুর রহমান গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি মাদ্রাসায় মুহতামিমের দায়ীত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২০ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজিজুর রহমানের অভিযোগ, ওই সময় তাঁর আপন দুই ভাই মাহতাবুর রহমান ও আতাউর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দয়ীত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক।
অভিযোগ পত্রে মাহতাবুর রহমান (৪৫), উসমান (২২), নেহারা বেগম (৩০), আতাউর রহমান (৫০) ও হামিদা বেগমের (৪০) নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী আজিজুর রহমানের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে এর আগেও তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিবাদ হয়েছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে তাঁর স্ত্রী জাকিয়া বেগমও আগে হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। সর্বশেষ ঘটনার সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আজিজুর রহমান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়াইনঘাট থানার এএসআই আলী আহমেদ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ অনুযায়ী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে, অভিযোগে নাম উল্লেখ করা মাহতাবুর রহমান, আতাউর রহমানসহ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।