• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লেখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ জিয়া সাইবার ফোর্স (ZCF) উত্তরা পূর্ব থানা কমিটির নতুন আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন শিলু সিলেটের খাজাঞ্চী মডেল কলেজ কর্তৃক এবারের এসএসসি ও দাখিল কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সিংড়ায় সামাজিক কল্যাণে সরকারি অনুদানের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান: সিংড়ায় অনুদানের চেক হস্তান্তরিত প্রতিমন্ত্রী পুতুল শেরপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মূল হোতা ওষুধ ব্যবসায়ী হিমু গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ এশিয়ান পুলিশ স্পোর্টস কাউন্সিলের উপদেষ্টা মনোনীত শামীমা পারভীন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চমক, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় নতুন নাম আবদুস সামাদ আজাদ রাঙ্গাটুঙ্গীর নারী ফুটবলারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লার ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লেখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় রিয়াদ মসজিদের ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের সাথে বিদ্যুতায়িত হয়। কেটে ফেলতে হয় দুই হাত।

কিন্তু সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি তাঁকে। মুখ দিয়েই লিখে একের পর এক পরীক্ষায়
সাফল্য অর্জন করে এবারে দাখিল পাশ করেছে রিয়াদ। জীবনের নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে এখন তার স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া। রিয়াদের এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে অনেককেই।
রিয়াদের বাড়ি উপজেলার বালিচাঁদ গ্রামে। বাবা দিনমজুর। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে রিয়াদ বড়।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। গ্রামের মধ্যে বালিচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকেরা রিয়াদকে আলাদা ভাবে দেখতেন। এরপর গ্রামের পাশে বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে এ বছর (২০২৬ সালে) দাখিল পাশ করে জিপিয়ে ২.৯৪ গ্রেডে।

বর্তমানে মুখ দিয়েই লেখালেখি থেকে শুরু করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন রিয়াদ। শুধু পড়াশোনাই নয়, সংসারের দৈনন্দিন কাজেও তিনি অন্যদের ওপর নির্ভরশীল নন রিয়াদ।শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সে।
রিয়াদ জানায়, ‘এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া। শিক্ষকতা তার সবচেয়ে পছন্দের পেশা। এমন অদম্য সাধন করার জন্য মুখে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলি। সেজন্য এখন আমাকে আরও বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে হবে। লেখাপড়া শেষে চাকুরী করে এই পরিবারের হাল ধরতে চাই।’

রিয়াদের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দিনমজুরি করে অনেক কষ্টে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। ছেলের এক্সিডেন্টর পর সুস্থতার জন্য আমার একটি ভুটভুটি ছিলো তাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন অনেক কষ্ট করে দিনমজুরি করে ছেলে দুটাকে ভালো মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, রিয়াদ লেখাপড়া শেষ করে সরকার যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়, তাহলে তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হবে।’

বালিচাঁদ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল আলম বলেন, ‘রিয়াদ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। দুই হাত না থাকলেও মুখ দিয়ে লিখে দাখিল পরীক্ষায় যে সাফল্য তিনি অর্জন করেছেন, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জীবনের প্রতিটি বাধাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলেছেন রিয়াদ হাসান। দাখিল পাশ কারার পর এখন তার চোখ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে। তার বিশ্বাস, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd