নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আজগাতী ইউনিয়নে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতাধীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র ও দারুল আরকাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাওলানা আব্দুল গাফফারসহ সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজগাতী ইউনিয়নে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রে কর্মরত শিক্ষক মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক বইয়ের পাতায় আগাম স্বাক্ষর (সিগনেচার) নিয়ে রাখা হয়েছে, যা গুরুতর আর্থিক ঝুঁকির বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
একই স্থানে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন নিজের কাছে বিভিন্ন চেক সংরক্ষণ করে রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য নিয়োজিত শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানকে পাঠদান করানো থেকে বিরত রেখে দারুল আরকাম প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক দিয়ে ওই কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বাবদ জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে দারুল আরকাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ ১,২০০ টাকা এবং মাসিক বেতন বাবদ ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে বই, খাতা, সিলেটসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন নিয়মিতভাবে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন আদায় করা হচ্ছে? এই অনিয়ম কি সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের অজানা, নাকি জেনেশুনেই তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন?
এ বিষয়ে দারুল আরকাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি দাবি করেন, রূপসা উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে অবগত রেখেই তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা এই অর্থের একটি বড় অংশ উপজেলা সুপারভাইজার মাওলানা আব্দুল গাফফারের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে তিনি বিষয়টি জেনেও দেখেও না দেখার ভান করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।স্থানীয় সাধারণ জনগণ জানান, দারুল আরকাম প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও উপজেলা সুপারভাইজারের প্রভাব ও ভয়ের কারণে তারা দীর্ঘদিন মুখ খুলতে পারেননি। তবে প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকেই ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন আদায়সহ নানা অনিয়ম চলতে থাকায় তারা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দারুল আরকাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিনকে অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে এবং উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাওলানা আব্দুল গাফফারকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও দাবি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বড় বড় অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।