জেসমিন আক্তার মনি, রংপুর প্রতিনিধি:
তিস্তার ভাটিতে আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করে বর্ষার পানি ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিস্তার সঙ্গে জড়িত ১৪টি শাখা নদীর গভীরতা বাড়িয়ে ওই পানি সংরক্ষণ করা হবে। বর্ষার পর শুকনো মৌসুমেও যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকর থাকে, সে লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়তলা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ডের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তার উজান থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানি না পাওয়া গেলে এবং প্রতিবেশী দেশ পানি না দিলে দেশের অভ্যন্তরেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, “তিস্তার উজান থেকে যদি শুষ্ক মৌসুমে পানি না পাই, প্রতিবেশী দেশ যদি পানি না দেয়, তাহলে আমাদের পানি ধরে রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, তিস্তার সঙ্গে জড়িত ১৪টি শাখা নদীর গভীরতা বাড়ানো হলে বর্ষার পানি ধারণ ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে। বর্ষাকালে সংরক্ষণ করা পানি শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। এভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সুফল সারা বছর ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।
তিনি বলেন, প্রতি মাসে কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার যাওয়া-আসার পথে হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং যেসব কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।
হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়ে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এবার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বেশি থাকায় শিগগিরই জনবল সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরোনো ভবনগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জায়গার সংকট রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। নতুন ভবনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। নতুন ভবন চালু হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।