শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের নকলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবি আরও জোরালো
শেরপুরের নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে দুটি বসতঘর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার এ ঘটনায় নিজের গ্রামের প্রতিবেশীর ঘর চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নকলার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘থটস অফ বিল্লাল’।
স্থানীয়রা জানান, নকলা উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের দল। পরে দূরবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিল্লাল। তিনি লেখেন, “সরকারি অনুমতি পেলে, নকলা থানার জন্য একটা ফায়ার সার্ভিস করে দিতাম।”
বিল্লালের দাবি, নকলা থানা থেকে হুজুরীকান্দা গ্রামের দূরত্ব মাত্র প্রায় ৭ কিলোমিটার। নকলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গেলে আনুমানিক ৭ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হতো। কিন্তু দূরবর্তী স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
আর সেই বিলম্বের সময়টুকুই যেন আগুনের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল দুই পরিবার।
আক্ষেপ করে বিল্লাল প্রশ্ন তোলেন, “বাকি ৫৩ মিনিট যে পুড়ে ছাই হলো, এ দায় কার?”
নিজের চোখের সামনে প্রতিবেশীর ঘর পুড়ে যেতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। হৃদয়ছোঁয়া ভাষায় লিখেছেন, “আমার চোখের জলে আগুন নিভলো।”
বিল্লালের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর নকলা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর যদি সাত মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে আগুনে পুড়ে যাওয়া সম্পদ ফিরিয়ে দেবে কে?
তাদের দাবি, মানুষের জানমাল রক্ষায় নকলা উপজেলায় দ্রুত একটি স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক।