লেখকঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
রাজনৈতিক বিচারের সময় “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” শব্দ টা বেশ জোরেশোরে শোনা যায়! শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব দেশে এই Kangaroo court কথাটার প্রচলন আছে! এই বিচারিক আদালত ও বিদেশ থেকে আমদানি হয়েছে! কেন ক্যাঙ্গারু কথাটা আদালতের সাথে যুক্ত হয়েছে? অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু ক্যাঙ্গারু তা আদালতের সাথে যুক্ত হলো কেন? ক্যাঙ্গারু কোর্ট শুনলেই সবাই ধরে নেয়
“প্রহসনের” বিচার, আদালত সম্বন্ধে এমন ভাবনা ই বা কেন?
প্রিয় পাঠক, এ বিষয় দু’টো ধারা চালু আছে, “আমেরিকার প্রত্যান্ত এলাকায় যথেষ্ট ক্রাইম সংঘটিত হতো, সে জন্য moveable এক ধরনের আদালত তৈরি হতো ক্ষণস্থায়ী, যা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দ্রুত স্থানান্তর করা হতো এবং মজার কথা হলো, সে আদালতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকতো না, মনগড়া নির্দিষ্ট থাকতো আদালতের রায়, সে জন্য ক্যাঙ্গারু কোর্ট শুনলে তার বিচারকে প্রহসনের বিচার বলে ধরে নেয়া হয়!
দ্বিতীয় মিথ হচ্ছে, ক্যালির্ফোনিয়ায় ১৮৪৮ সালে স্বর্ন খণি পাওয়া যায়, লক্ষ লক্ষ লোক সেখানে ভিড় জমায় তাদের ভাগ্য ফিরাতে! তখন খনির মালিকানা নিয়ে বিশাল দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ হতো, তা সমাধান করতে ক্ষণস্থায়ী আদালত বসানো হতো এবং সেখানেও রায় কারো পকেট থেকে আসতো!
বিশ্ব সভ্য হয়েছে, আমরাও কিছুটা হয়েছি বৈকি? তাই এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সরকার পক্ষের একজন আইনজীবী আসামির হয়ে কথা বলে যদি-ও তা শেখানো কথা, ডানে-বামে বলার ঐ আইনজীবীর এখতিয়ার থাকে না! এক ধরনের প্রহসন! আগেই রায় জানা থাকে!
১৯৭৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক সরকার “মেঃজেঃ জিয়াউল হক” তার আগের শাসক “জুলফিকার আলি ভুট্টা” কে ফাঁসি দিয়েছিলেন এমই আদালতে!
রায়ের প্রায় একমাস আগে পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট “জিয়াউল হক” বলেছিলেন, ” I must hang that bastard!’ ( বেজন্মা টাকে ঝুলায় ছাড়বো! “) ভুট্টার বিরুদ্ধে “কাসুরি হত্যা” মামলা কুড়িয়ে আনা হয়েছিল his involment দেখিয়ে ! ভূট্টার মেয়ে “বেগম নুসরাত ভুট্টা” একসময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন! পাকিস্তান রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার পথ ধরে তাকে-ও হত্যা হতে হয় সেই ময়দানে যেখানে পাকিস্তানের শেষ পার্লামেন্টারি ফরম অফ গভঃ এর শেষ প্রধান মন্ত্রী “লিয়াকত আলী খানকে” হত্যা করা হয়, একই রকম বক্তৃতা রত অবস্থায়!
এমনি ১৯৭১ সালে ” মুজিব’ কে ইয়াহিয়া খান Kangaroo court এ ফাঁসি দিয়েছিলেন, কবরও খুঁড়েছিলেন মুজিবের জেল কক্ষের পাশেই! বাংলাদেশের সামরিক সরকার “জিয়াউর রহমান” তার বিরুদ্ধে বার-বার সেনা অভ্যুত্থানের জন্য দেশদ্রোহিতার অভিযোগে পাকিস্তান ফেরত “আঃ রহমান সাহেবের (সম্ভবত নামটা ঠিক আছে) আদালতের অধীনে দ্রুত কয়েক হাজার সেনা সদস্য কে ফাঁসি দেন! এতোই তাড়াহুড়ো ছিলো যে তদন্ত করার সময় ছিলো না, এমন ও শোনা গেছে mutinies এর সময় ছুটিতে ছিলেন বা একই নামের অন্য ব্যক্তি ফাঁসিতে ঝুলে গেছেন! ফাঁসির মঞ্চ ও নাজিমুদ্দিন রোড জেলে খানা ডবল এবং কুমিল্লা জেল খানায় তৈরি করা হয়েছিলো! সাংবাদিক এ্যান্হনি তার বইয়ে সম্ভবত এমন ই লিখেছেন!
প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার বিচার ও মেজর জেনারেল মঞ্জুর সংশ্লিষ্ট অনেকেই ঝুলে গিয়েছিল এরশাদ ইঙ্গিতে, সেটাও Kangaroo court ছিলো! মুজিব হত্যার বিচার হয়েছিল General Court এ! দেশের শাসক যখন যেমন মনে করেন!
প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার পর দেখা গেছিলো ৫২ জন সেনা অফিসার অবশিষ্ট আছে তাদের ভিতর একজন মাত্র “মুক্তি যোদ্ধা অফিসার ” আর বাকী প্রায় সবাই পাকিস্তান ফেরত!
বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়া একটা “দ্রুত বিচারিক আদালত” করেছিলেন! দ্রুত সব বিচারে একটু ভুল ত্রুটি থাকতে পারে তবে আদালত টা দারুন সফলতা পেয়েছিল, মামলার যানজট কমিয়েছিল, কোন কোন ঐতিহাসিক বিচার সে আদালত করেছিলো যা হয়তো আলোর মুখ দেখতো না! পরবর্তী আওয়ামী সরকার কিছু বছর আদালত টা বহাল রেখে একসময়ে নির্জীব কেন করে দিলেন আমার বোধগম্য হয় নাই। অবশ্যই সেটা Kangaroo Court ছিলো না!
ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন নিজ দেশকে ভালোবাসেন।