• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পূর্বধলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন, ফুটবলে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জয় বিশ্বনাথে প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের বিদায় সংবর্ধনা অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই—– অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্ট্রিটলাইট ও সড়ক নির্মাণ থানচিতে শিশু অধিকার সপ্তাহের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন, দুই বিদ্যালয়ের শিরোপা জয় নীতিমালার বাইরে সার ডিলার নিয়োগে ব্যবস্থা- কৃষিমন্ত্রী ডিমলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রাস্তা প্রশস্তকরণের দারুন উদ্যোগ, কমবে জলাবদ্ধতা-যানজট সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ৪ সিংগাইরে বিস্ফোরক মামলায় সাবেক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা উজ্জ্বল গ্রেপ্তার

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার: ওসি আমানের নেতৃত্বে রাণীশংকৈল থানা পুলিশের আরেকটি সফল অভিযান

Reporter Name / ১১৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নারী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিকে নরসিংদী থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ।

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদকসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় রাণীশংকৈল থানা পুলিশের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৩ (দিনাজপুর ক্যাম্প) এবং র‍্যাব-১১ (নরসিংদী ক্যাম্প)-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি মো. রনি (২২)-কে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার শাষপুর শহীদ মিনার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার করনাইট কুমরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ মে সকালে হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি গোপন রাখতে বলে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তিনি বিয়ের দাবি জানান। কিন্তু অভিযুক্ত ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তের বাবা আব্দুর রহিম ভুক্তভোগীর বুকের ওপর চেপে বসে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসববেদনা শুরু হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

ঘটনার পরও অভিযুক্ত পক্ষ আপস-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকলে ভুক্তভোগী ২০২৬ সালের ৬ মে রাণীশংকৈল থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৬)। মামলা হওয়ার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় রাণীশংকৈল থানা পুলিশের অনুরোধে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাণীশংকৈল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, আইনের চোখে কোনো অপরাধীই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গুরুতর অপরাধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। রাণীশংকৈল থানা পুলিশের এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পলাতক আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব। নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময়ই কঠোর।
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, অপরাধী যত দূরেই পালিয়ে থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে—এটাই ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের অঙ্গীকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।

রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারীর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, মাদক, চুরি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে ধারাবাহিক সাফল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপরাধ দমনে এই পেশাদার ও কার্যকর অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd