ঝুমা আক্তার
যাকাত দেওয়া ফরজ যে তোমার, জানো কি সে বাণী,
কৃপণতা হারাম পথে চলে, মানতে চায় না প্রাণী।
সম্পদ যত তোমার আছে, প্রভুর দয়ার দান,
নিজ শক্তিতে অর্জন ভেবে, করো না অহংকার।
যাকাত যদি না দাও তুমি, খেয়ানত সেই ধন,
তাকওয়া যদি থাকে মনে, মানো এই বচন।
রিজিকদাতা এক আল্লাহ, তিনি মহান রব,
তোমার ভাগে যা রেখেছেন সেটাই সত্য সব।
পরিশ্রমে ধনী হও, এ কথা সত্য ঠিক,
দিনমজুরের ঘাম ঝরে তবু,কেন থাকে দুঃখ?
চোখের সামনে প্রমাণ আছে, ভাবো মন খুলে,
সবাই যদি গরিব হতো,ভেদ থাকতো কুলে?
সব কিছুরই মালিক যিনি, সৃষ্টিকর্তা দয়াময়,
তাঁরই হুকুম মানলে তবে, জীবন হয় স্নিগ্ধময়।
গরিবের হক মেরে খেয়ে,কেন হও নিষ্ঠুর?
জাহান্নামের আগুন কিন্তু হবে না কভু দূর।
শরীরটাও তোমার নয়,রবের দয়ার দান,
এ কথা যদি মানতে পারো, শান্ত হবে প্রাণ।
বুদ্ধি-জ্ঞান সবই তোমার সীমার মাঝে রয়,
ইচ্ছেমতো ধনী-গরিব বানাতে পারো কয়?
মানুষ সবাই সমান সৃষ্টি ভেদ করো কেন?
সম্পদেরই গর্ব নিয়ে বড়াই করো যেন।
নিসাব যখন পূর্ণ হবে, হিসাব কষে নাও,
সোনা-রূপা, নগদ অর্থ হকের হাতে দাও।
একটি বছর পূর্ণ হলে ফরজ হয় তখন,
চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দাও এটাই বিধান।
ঋণ-খরচ বাদ দিয়ে তবে সত্য হিসাব ধরো,
গরিবের হক বুঝে দিয়ে যাকাত আদায় করো।
জোর করে তো দেননি আল্লাহ কোনো কাজের ভার,
তবু কেন অবহেলায় করো নিজেরই ক্ষতি আর?
আজ থেকেই হিসাব কষে দাও গরিবের হক,
তোমার বেশি যা কিছু আছে তাদেরই অধিকার।
যাকাত হলো সম্মানের পথ পবিত্রতার দিশা,
সৎ পথে চললে পাবে তুমি ইজ্জত আর বিশ্বাস।
যাকাত দিলে বাড়ে সম্পদ কমে না যে কভু,
সত্য জেনে কেন বলো ফিরে আসো না তবু?
মৃত্যু যখন আসবে হঠাৎ সময় পাবে না আর,
আফসোস ছাড়া কিছুই তখন রবে না তোমার।
তাই বলি ভাই দেরি কোরো না দাও যাকাত আজ,
দানেই মেলে মুক্তির পথ এটাই মহৎ কাজ।
ইহকাল আর পরকালে পাবে সম্মান সমান,
রবের হুকুম মানলে হবে উজ্জ্বল তব প্রাণ।
লেখক:
ঝুমা আক্তার, শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগ, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়: