জেসমিন আক্তার মনি, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর বিভাগে বাংলাদেশ মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে চলমান কার্যক্রম তুলে ধরতে “Strengthening the Maternal and Neonatal Health System in Rangpur, Bangladesh” প্রকল্পের উদ্যোগে আজ রংপুর সেন্ট্রাল কনভেনশন হলে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাসুমা রহমান নাবিলা “জননী” প্রকল্পের বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করেন। দিনের শুরুতে তিনি স্থানীয় একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (KOICA) এর অর্থায়নে, Save the Children এর কারিগরি সহায়তায় এবং RDRS Bangladesh এর বাস্তবায়নে রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার ৪০টি ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জননী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য:
1. মানসম্মত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা
2. নিরাপদ প্রসব সেবা উন্নত করা
3. দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী নিশ্চিত করা
4. রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা
5. কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা
6. বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের মতো সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা
পরিদর্শনকালে নাবিলা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ANC ও PNC সেবাগ্রহীতা মা ও তাদের পরিবারের সদস্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কিশোরী, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তাঁর পর্যবেক্ষণ ও মতবিনিময়ের ভিত্তিতে তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করেন:
1. সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা
2. সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরী গর্ভধারণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা
3. দুর্গম ও চরাঞ্চলের জন্য মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা নির্দেশিকা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা
4. স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ, সঠিক পদায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা
5. মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বিনিয়োগ ও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা
নাবিলা “জননী” প্রকল্পের প্রতি তাঁর আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করে বলেন, আমার প্রত্যাশা, রংপুর অঞ্চলের প্রতিটি মা ও নবজাতক নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অ্যাডভোকেসি ও সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর লক্ষ্য একটি সহজপ্রাপ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সকলের জন্য মানসম্মত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।