• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
দুই হাত হারিয়েও থামেনি, মুখ দিয়ে লেখে দাখিল পাশ করলো রিয়াদ জিয়া সাইবার ফোর্স (ZCF) উত্তরা পূর্ব থানা কমিটির নতুন আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন শিলু সিলেটের খাজাঞ্চী মডেল কলেজ কর্তৃক এবারের এসএসসি ও দাখিল কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সিংড়ায় সামাজিক কল্যাণে সরকারি অনুদানের যথাযথ ব্যবহারের আহ্বান: সিংড়ায় অনুদানের চেক হস্তান্তরিত প্রতিমন্ত্রী পুতুল শেরপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মূল হোতা ওষুধ ব্যবসায়ী হিমু গ্রেপ্তার শ্রীবরদী সীমান্তে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ এশিয়ান পুলিশ স্পোর্টস কাউন্সিলের উপদেষ্টা মনোনীত শামীমা পারভীন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চমক, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় নতুন নাম আবদুস সামাদ আজাদ রাঙ্গাটুঙ্গীর নারী ফুটবলারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লার ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ শেরপুরবাসী, ৪ সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

মোঃ শহিদুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শেরপুর জেলার সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষও পড়েছেন নানা সমস্যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়াই ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে মানুষ যখন বিশ্রামের প্রস্তুতি নেন, তখন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে বা খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার্থী ও নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে পারছেন না। কেউ কেউ চার্জার লাইট, মোমবাতি কিংবা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

শুধু শিক্ষা নয়, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাগত কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, ফ্রিজ, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনলাইনভিত্তিক কাজ, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না।

বিদ্যুৎ না থাকায় কোথাও কোথাও পানির সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত পাম্প বন্ধ থাকায় বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি তুলতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ফলে লোডশেডিংয়ের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থায় শেরপুর জেলার চার সংসদ সদস্যের প্রতি সাধারণ মানুষের জোর দাবি—জনগণের এই দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা-এর কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তারা সম্মিলিতভাবে শেরপুরের বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো কারিগরি সমস্যা, জাতীয় পর্যায়ের সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণে লোডশেডিং হয়ে থাকলে জনগণকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের সময়সূচি থাকলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং জরুরি প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের মতে, বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ কোনো বিলাসিতা নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রায় সব কার্যক্রমই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যক্তি ও পরিবার থেকে শুরু করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

শেরপুরের মানুষের প্রত্যাশা, জেলার চার সংসদ সদস্য দল-মত নির্বিশেষে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে লোডশেডিংয়ের কারণ চিহ্নিত, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিও সাধারণ মানুষের আহ্বান, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। কোথাও জরুরি মেরামত বা কারিগরি কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হলে গ্রাহকদের তা যথাসম্ভব আগে জানানো এবং মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সাধারণ মানুষ বলছেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। তাদের চাওয়া খুবই স্বাভাবিক—স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে যে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে, তা দ্রুত সমাধান করা এখন সময়ের দাবি।

শেরপুরের চার সংসদ সদস্যের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা—তারা বিষয়টি শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।

জনগণের দাবি একটাই—‘শেরপুরের মানুষকে অসহনীয় লোডশেডিং থেকে বাঁচান।’

শেরপুরের মানুষ এখন অপেক্ষায়—জনগণের দুর্ভোগের কথা শুনে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

লোডশেডিং নয়, শেরপুরের মানুষ চায় নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও স্বস্তিদায়ক বিদ্যুৎ সরবরাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd