নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত, মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালু এবং পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শাহবাগের হাদী চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাদী চত্বর থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক *মো. মোস্তফা আল ইহযায* এর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য *অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন*।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালিদের আয়কর অব্যাহতির আওতায় আনতে হবে। একই এলাকায় বসবাস করেও শুধুমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এ সুবিধা পাচ্ছে, যা বৈষম্য তৈরি করছে। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ ও ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আয় করমুক্ত রাখা হলেও বাঙালিরা বঞ্চিত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০.০৬ শতাংশ বাঙালি। কিন্তু চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পে তাদের প্রত্যাশিত অংশীদারিত্ব নেই। জেলা পরিষদের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতে শতভাগ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবি জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, “কতিপয় উপজাতির ‘আদিবাসী’ দাবির পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিতে ৫০ বারের বেশি ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর, অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, বজলুর রহমান বাবলু, মিজানুর রহমান, জিয়া উল হক প্রমুখ।