মোঃ মাহফুজুর রহমান:-
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)- এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সব ধরনের দেশি ও বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাঁর মতে, যুবসমাজই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি, আর তাদের সচেতন ভূমিকাই পারে জাতির ওপর কোনো অন্যায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা রুখে দিতে।ভাষণের দ্বিতীয় অংশে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের রাজনীতির মাধ্যমেই দেশ চলমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।ভাষণের তৃতীয় ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে তারেক রহমান রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে ইসলামের মহান আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (রাসুলুল্লাহ সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সততা, ন্যায়বিচার, সহানুভূতি ও মানবকল্যাণকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি করতে হবে। এসব আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দুর্নীতি, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি টেকসই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও এই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্য আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।