মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ও সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নগরীর জিরোপয়েন্টকে ‘নজরুল চত্বর’ এবং গরিব ময়লাপোতা এলাকার সড়ককে ‘কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ নামে নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) খুলনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ নামকরণের ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে।
নতুন নামকরণের মাধ্যমে খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সঙ্গে জাতীয় কবির নাম ও স্মৃতিকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
জিরোপয়েন্ট খুলনা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও ব্যস্ততম স্থান। নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি ‘নজরুল চত্বর’ নামে পরিচিতি পেলে জাতীয় কবির নামটি খুলনার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, গরিব ময়লাপোতা এলাকার সড়কটি ‘কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ নামকরণের ফলে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও জাতীয় কবির নামে পরিচিতি পাবে। এ উদ্যোগকে নজরুলের সাহিত্য ও মানবতাবাদী দর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম যুগের পর যুগ বাঙালিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। খুলনার গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থানের নাম তাঁর নামে করার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নামকরণের ঘোষণা ঘিরে খুলনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও নজরুলপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘোষিত নাম দুটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্থানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন তুলে ধরে নান্দনিক স্থাপনা বা স্মারক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নাম পরিবর্তন নয়, নতুন নামের সঙ্গে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সাম্যের দর্শনকে যুক্ত করে এসব স্থানকে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হবে।