পলাশ মন্ডল (আকাশ)
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জনমনে এক গভীর সংশয় ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার স্বাধীনতা। রূপক অর্থে অনেক সচেতন নাগরিকই আজ প্রশ্ন তুলছেন, সংস্কার কিংবা উন্নয়নের ‘ম্যাজিক’ দেখাতে গিয়ে আমাদের অজান্তেই কি দেশের পায়ে এক অদৃশ্য ‘ডান্ডাবেড়ি’ পরানো হচ্ছে? আর সেই শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণের চাবি কি তুলে দেওয়া হচ্ছে কোনো বিশেষ পরাশক্তির হাতে?
বাস্তবতা ও শঙ্কার জায়গা:
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তির মূল ভিত্তি হলো তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর ঋণের কঠিন শর্ত এবং বিদেশি শক্তির দৃশ্যমান কূটনৈতিক প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—আমাদের বাজেট, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কার কি সত্যিই আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী হচ্ছে, নাকি তা বিদেশের কোনো ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে?
বন্ধুত্বের আবরণে কোনো নির্দিষ্ট দেশের অতি-সক্রিয়তা যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে, তখন সার্বভৌমত্বের সংজ্ঞাটি ফিকে হয়ে আসে। উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে যদি ভিনদেশের ‘সবুজ সংকেত’-এর প্রয়োজন হয়, তবে সেই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বকীয়তা নষ্ট করতে পারে। পরনির্ভরশীলতার এই সংস্কৃতি যদি একবার গেড়ে বসে, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল ঋণের বোঝা এবং পরাধীনতার শিকল হয়ে দাঁড়াবে।
জনগণের কাছে প্রশ্ন:
পরিশেষে, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের ভাবার সময় এসেছে—আমরা কি সংস্কার বা সহায়তার নামে কোনো অদৃশ্য শক্তির শর্তের কাছে নিজেদের ভবিষ্যৎ বন্ধক দিচ্ছি? আজ যা সাময়িক স্বস্তি বা সংস্কারের ‘ম্যাজিক’ হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে, কাল তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ‘ডান্ডাবেড়ি’ হয়ে দাঁড়াবে না তো?
স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা কেবল একটি মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করার অখণ্ড ক্ষমতায়। সেই ক্ষমতার চাবি যেন সবসময় এদেশের মানুষের হাতেই থাকে—এটাই হোক আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।