মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে রাতের আঁধারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০২ বস্তা সরকারি চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পণ্যবাহী গাড়ি আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে গাড়িসহ রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে যায়।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের মালিভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আনোয়ারুল হকের আওতাধীন ১০২ বস্তা সরকারি চাল একটি গাড়িতে করে নেকমরদ বাজারের চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গাড়িটি আটক করেন।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় গাড়িতে থাকা ১০২ বস্তা চাল উদ্ধার করে গাড়িসহ রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে চাল ও চাল বহনকারী গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নোমান বলেন, রাতে একটি গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ চাল নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে গাড়িটি থামিয়ে ভেতরে থাকা বস্তাগুলো পরীক্ষা করে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বলে জানতে পারেন তারা। এরপর প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়।
তিনি বলেন, সরকারি সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ করা চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হতে পারেন। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই চাল আমার না, তবে সরকারি চাল। আমাদের গ্রামে যারা চাল পান, তাদের মধ্যে কেউ চাল আবার কেউ টাকা নিয়ে যান, এটা সত্যি। আমার এক ভাতিজা ওই চালগুলো কিনে দোকানে স্টক করেছিল। টাকার প্রয়োজন থাকায় আমি তাকে চালগুলো বিক্রি করে দিতে বলি।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, চাল উদ্ধারের পর ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দেন-দরবারের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “চালগুলো থানায় আনা হয়েছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া চালগুলো সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত কি না এবং কীভাবে সেগুলো পরিবহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।