সাইদুর রহমান আফজল, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৬৩ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় রুই, কাতলা ও মৃগেল জাতীয় মাছের পোনা জলাশয়ে ছাড়া হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পোনামাছ অবমুক্তকরণ শেষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, হাওর-জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে। নদী-নালা ও জলাশয়ে পানি থাকলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা ও ছোট মাছ নিধনের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানো, দেশীয় মাছের সংরক্ষণ এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে।
আমিনুর রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ। তবে অবমুক্ত করা পোনামাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে হলে সবাইকে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।