নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী
নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্থানীয় কৃষক আব্দুল বারেক বেপারী (৬০)। গত ১৫ নভেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে তার নিজ বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যার আগে কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বারেক বেপারী একা পুকুরপাড়ে কাজ করছিলেন। এই সময় পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে আসে
জাকির সরকার (৫৭), রিফাত সরকার (২২) ও অজ্ঞাতনামা ৫–৭ জন। তাদের ইশারায় সিদ্দিক সরকার (৫২), সাব্বির সরকার (২৩), কুদ্দুস সরকার (৫৫), সুমন সরকার ও রুমি বেগম (৪০) মিলে বারেক বেপারীর ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেছন থেকে চেপে ধরে জোর করে বালুর মধ্যে ফেলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
ছেলের চোখের সামনে শেষ লড়াই
নিহতের ছেলে নূর মোহাম্মদ, যিনি পাশের জমিতে কাজ করছিলেন, বাবার চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখেন— কয়েকজন মিলে তার বাবাকে শ্বাসরোধ করছে। পরে তিনি বহু কষ্টে বাবাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বারেক বেপারীকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও মামলা
খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানা হাসপাতাল গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহ মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের পরিবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় জাকির সরকার, রিফাত সরকার, সিদ্দিক সরকারসহ মোট ৮–১০ জনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈরিতা
গ্রামবাসীর দাবি— দুই পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। পূর্বে কয়েকবার স্থানীয় সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। তাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং বিরোধেরই নির্মম পরিণতি।
পরিবারের দাবি
নিহতের ছেলে নূর মোহাম্মদ বলেন—
> “বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকজন মিলে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করেছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি। আমরা বিচার চাই।”
গ্রামজুড়ে উত্তেজনা
ঘটনার পর নবীপুর গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।