মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা কিংবা জনসমাগমের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় খাবার বিতরণের মাধ্যমে কথিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন পশ্চিম বানিয়াখামার পুরাতন গল্লামারী রোডে পশু হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিজেদের মধ্যে কয়েকজনকে একত্রিত করে খাবার বিতরণের মাধ্যমে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণার অপচেষ্টা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে নাশকতা বা রাষ্ট্রের স্থিতিশীল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা ছিল বলে পুলিশ মনে করছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—আলী হোসেন (২৪), পিতা নজরুল ইসলাম, সাং মদিনা নগর গলি, থানা লবণচরা, খুলনা; মো. ইমন (২৬), পিতা জুলহাস, সাং দরগা রোড, মেজরের মোড়, থানা খুলনা সদর; আশরাফুল ইসলাম (২৬), পিতা সিদ্দিকুর রহমান, সাং সাচিবুনিয়া, সুইচগেট, থানা লবণচরা; আব্দুস সামাদ (৫২), পিতা মৃত আরশাদ আলী, সাং কুবা মসজিদের পাশে, পুরাতন গল্লামারী, থানা সোনাডাঙ্গা মডেল; এবং মো. রনি সরদার (২৭), পিতা মো. সফিকুল সরদার, সাং চিড়ার মিল গলি, পুরাতন গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, খুলনা।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কেএমপি বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, জনসমাগম সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরজুড়ে পুলিশের নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয়ের পরিবর্তে তার কর্মকাণ্ড ও আইনি দায় বিবেচনা করা হবে।