মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারী-১ ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন। বহু বছর ধরেই আসটি ছিল বিএনপি-জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি। চব্বিশের আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের ভেতর দিয়েও দল দুটি তাদের প্রভাব আসনটিতে বজায় রেখেছে। যদিও বিগত ১৬ বছরের পুরো সময় আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখে। স্থানীয়দের মতে, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনে’ এই আসনটিতে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করেছিল আওয়ামী লীগ। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই প্রেক্ষাপট বদলে যায়।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দীর্ঘ সময় বিদেশে ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার ভাগনে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফিরে নিজ সংসদীয় আসনে গণসংযোগ ও প্রচার শুরু করেন। তখন নেতা-কর্মীরা আবারও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম ছিল না। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। বর্তমানে নীলফামারী-১ আসনকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে। বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, এটাই এখন জেলার রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। অন্যদিকে সেই শূন্যস্থানেই মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছে জামায়াত।
তারা এখন মাঠে সরব হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী না থাকায় তারা নির্বিঘ্নে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শুরু করে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীর সঙ্গে সভা-সমাবেশ, ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ, ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে আসনটিতে জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে চলে যাবে। অন্যদিকে জামায়াতের একাধিক নেতার দাবি, তারা অনেক আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় আছেন। ভোটারদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।
ডোমার উপজেলার গোমনাতি এলাকার বাসিন্দা নতুন ভোটার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা তরুণরা উন্নয়নমূলক রাজনীতি চাই। দল এখানে মুখ্য নয়, এলাকার স্বার্থই বড়। এলাকার কোনো প্রার্থী না থাকলে, তখন যোগ্য ব্যক্তি খুঁজতে হবে।’
ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রিয়াজুল ইসলাম কালু বলেন, ‘দলের নীতি-নির্ধারকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা মেনে নেব। তবে আমরা নিশ্চিত, শাহরিন ইসলাম তুহিন নীলফামারী-১ থেকে ভোট করবেন। তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। যে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে, এটি সম্ভাব্য তালিকা। এতে আরও পরিবর্তন আসবে। প্রার্থীদের ভোটের ইমেজ/জনপ্রিয়তা দেখার জন্য সেন্ট্রাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।’
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচনে দেরি হলে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে রাজনৈতিক মাঠ। প্রথমত বিএনপি তুহিনকে প্রার্থী ঘোষণা করলে জনসমর্থন আরও জোরদার হবে। আবার যদি তুহিন বাদ পড়ে সে ক্ষেত্রে দলের ভেতরেই ক্ষোভ বাড়বে। ভোটের দিন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকেও কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মনজরুল ইসলাম আফেন্দি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।