কলমেঃ রাহেলা আক্তার
কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে হিম বাতাসে এসেছি—
হেমন্তের কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে।
সোনালি ধানের আভা, কৃষকের মুখরিত মন-মাতানো
গানে, নবান্নের উৎসব, ফুল, পাখি আর বৃক্ষরাজির
শহর জুড়ে চেয়ে গেছে আমার পুরো অস্তিত্ব।
রোজ সকালেই পাখিরা ঘুম ভাঙায় মিহি সুরে,
প্রকৃতির বুকে গড়ে তোলে প্রেমের অনাবিল ঢেউ।
হিম পরশে তরুলতার আবেগ-মাখা জড়ানোর
মিলনাত্মক সুখের ছোঁয়ায় পরিস্ফুট হয় নতুন কুঁড়ি।
দিগন্তের সীমানা ঘেঁষে সারি সারি খেজুরগাছে
রসের হাঁড়ি, মাঠ জুড়ে সরষে ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে
ভ্রমরের গুঞ্জন, প্রজাতির পাখায় ছড়ায় রংধনুর সাত রঙ।
কখনো আমার আমিত্বে হারিয়ে—
লুকিয়ে থাকা অভিমানী সূর্যের মান ভাঙাই।
প্রকৃতির প্রেমের সমারোহ প্রতিটি আঙুলের ডগায়,
যার সুধা পানে সৃষ্টিকূল পরিতৃপ্ত।
কালের বিবর্তনে, জং ধরিয়ে শাখা-প্রশাখায়
ধারণ করেছে ফ্যাকাসে হলুদ বর্ণ।
এই বুঝি ক্ষণকালীন পৃথিবীতে পুরিয়েছে শীতের আয়ু!
হিমের বেগ দুর্বল হয়ে, প্রকৃতি উসকো-খুসকো হয়ে যাচ্ছে।
বসন্ত, তোমার আগমনী সুরের মূর্ছনায়—
জরাজীর্ণতা দূর করে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেবে সজীবতা।
কোকিলের কুহুতানে ভাঙাবে নিশাচর প্রাণীর ঘুম,
বাসন্তী রঙে রাঙাবে মনের দুয়ার।
কোনো এক হেমন্তে অমাবস্যার তিথিতে—
আবার পূর্ণ জন্ম নেব আমি, প্রকৃতির বুকে,
হিম পরশে সবুজের সমারোহে ছড়িয়ে দিতে।
এই বলে বসন্তকে শীতের শেষ চিঠি, শিশির-মোড়ানো
সবুজ খামে প্রকৃতির বুকের আদলে জমা দেয়।