মোঃ আবু সাঈদ, স্টাফ রিপোর্টার:
বাগেরহাট সদর উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অপরাধীদের নির্মূলে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের ব্যস্ততম নাগেরবাজার ও ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এলাকায় এক বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা,গাঁজা,দেশীয় চোলাই মদ,বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র (ছুরি) এবং সমপরিমাণ জাল টাকাসহ মোট ১১ জন সক্রিয় অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) বাগেরহাট জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল যৌথভাবে এ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
নাগেরবাজারে ব্লকেড রেইড ও তল্লাশি
পুলিশ সূত্রের তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাতে বাগেরহাট সদর পৌরসভার নাগেরবাজার ও তার আশপাশের এলাকায় সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের উপস্থিতির খবর পায় পুলিশ। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার কয়েকটি চৌকস দল সমন্বিতভাবে ওই এলাকা ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকার প্রধান প্রধান প্রবেশ ও গমনের পথগুলো ব্লকেড করে ফেলা হয়।পরবর্তীতে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চিহ্নিত অপরাধী ও সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের দেহ এবং বসতঘরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়। এলাকা থমথমে হয়ে উঠলেও পুলিশের নিখুঁত পরিকল্পনার কারণে কোনো অপরাধীই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি।
নাগেরবাজার থেকে মাদক ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ৮ জন আটক নাগেরবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং মাদক কারবারে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
বিষ্ণু রবি দাস (৩৫)পল্টু রবি দাস (৩৫)জয় রবি দাস (২৫)মো. রিফাত (২৪)সিরাজ (২০)বিপ্লব মিস্ত্রী (৩৬)নিমাই সাহা (৪০)পলি (৪৫)আটক ব্যক্তিদের বসতঘর এবং দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৩১৫ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট,১৪০ পুরিয়া (ওজন ২০০ গ্রাম) গাঁজা, ৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করা হয়। শুধু মাদকই নয়, অপরাধীদের আস্তানা থেকে বিভিন্ন ধরনের ছিনতাই ও সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ৫৫টি বিভিন্ন আকৃতির ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।মাজারের পুকুরপাড়ে ডিবির পৃথক অভিযান: ৯০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ এদিকে, অন্য এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অপর একটি বিশেষ দল বাগেরহাট সদর থানাধীন হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকায় পৃথক একটি অভিযান পরিচালনা করে।সেখানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা লেনদেন ও আদান প্রদানের সময় ডিবির উপস্থিতিতে অপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন:
মো. আকলাস ভুইয়া (৫৫)
আশিকুর রহমান মোল্লা (২৩)মো. শিবলু ফকির (২৪)তাদের কাছে থাকা বিশেষ ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ৯০টি জালনোট (মোট ৯০ হাজার টাকা) উদ্ধার করা হয়। মাজারের মতো জনবহুল স্থানে এই জালনোট চক্র কীভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল, সে বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
আইনগত ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য
বাগেরহাট জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন এবং জালনোট সরবরাহের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ধারায় বাগেরহাট সদর থানায় পৃথক কয়েকটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানানো হয়, জেলা থেকে মাদক, অস্ত্র এবং জাল টাকার সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের আচমকা ও বিশেষ যৌথ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন,কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।