শেরপুর প্রতিনিধি:
অর্থেঅভাবে হার্টের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছিলেন না শেরপুরের তাড়াগড় গাংপাড় এলাকার মোতালেব মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগতে থাকা এই অসহায় রোগীর ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ‘অসহায় রোগী কল্যাণ প্রকল্পের’ মাধ্যমে সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা অর্থে তাঁর জন্য ২ মাস ১৫ দিনের ৪ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের হার্টের ওষুধ উপহার দেওয়া হয়েছে।
মানুষ যখন সদিচ্ছা নিয়ে ভালো কাজ শুরু করে, স্রষ্টা তার জন্য পথ সহজ করে দেন—এই বিশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এই উদ্যোগে। একজন স্বেচ্ছাসেবী সহযোদ্ধার বাবার চিকিৎসার প্রয়োজন মেটাতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এসেছেন রক্তসৈনিকের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
জানা যায়, একজন স্বেচ্ছাসেবী সহযোদ্ধার বাবা মোতালেব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হয়। সম্প্রতি তাঁর ওষুধ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরিবারের হাতে ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় নতুন করে ওষুধ কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
এমন পরিস্থিতির খবর পৌঁছে যায় রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাছে। বিষয়টি জানার পর অসহায় রোগীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। ‘অসহায় রোগী কল্যাণ প্রকল্পের’ মাধ্যমে সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করা হয়। মানবিক মানুষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের পর মোতালেব মিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা হয়।
পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে তাড়াগড় গাংপাড় এলাকায় মোতালেব মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে ২ মাস ১৫ দিনের প্রয়োজনীয় হার্টের ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে চিকিৎসার ওষুধ নিয়ে অন্তত আগামী কয়েক মাসের জন্য তাঁর পরিবারের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু, রক্তসৈনিক শ্রীবরদীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, রক্তসৈনিক শেরপুরের কার্যকরী সদস্য নাজমুল হাসান, ক্লিন আপ শেরপুরের সদস্য সুজন মিয়া প্রমুখ।
পরে রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু বলেন, “যেসব রক্তসৈনিক সহযোদ্ধা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন এবং যেসব মানবিক মানুষ ‘রক্তসৈনিক অসহায় রোগী কল্যাণ প্রকল্পের’ মহতী কাজে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ। তাঁদের সহযোগিতায় একজন অসহায় রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “ইচ্ছা বা উদ্যোগ মহৎ থাকলে ভালো কাজে স্রষ্টার সাহায্য বা তৌফিক পাওয়া যায়। আল্লাহ বান্দাকে সৎপথে ও ভালো কাজ করার শক্তি এবং অনুকূল পরিবেশ দান করেন। পবিত্র কুরআনে সৎকর্মে একে অপরকে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে আরও বেশি করে যুক্ত হোক।”
এদিকে, অসহায় মানুষের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, অর্থের অভাবে একজন রোগী যেন প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সমাজের সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন। একটি পরিবারের সংকটের সময়ে সামান্য সহযোগিতাও হয়ে উঠতে পারে বড় স্বস্তির কারণ।
রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্যদের পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী ও মানবিক মানুষের সহযোগিতায় ‘অসহায় রোগী কল্যাণ প্রকল্প’ এভাবেই অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। মানুষের জন্য মানুষের এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।