সাধন সাহা জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্ধারিত বালুমহাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তিনজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেঘনা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করেন আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রবিউল সারোয়ার। জব্দকৃত ড্রেজারটি পরবর্তীতে নৌ পুলিশের জিম্মায় প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর চরসোনারামপুর চর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার পূর্বে এবং আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল)-এর ৬০০ মিটার উত্তর-পূর্বে পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালালে ড্রেজারগুলো কিশোরগঞ্জের ভৈরবের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে ‘এম বি মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ড্রেজারসহ এর তিন চালক ও শ্রমিককে আটক করা হয়।
নির্ধারিত বালুমহাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আটককৃত তিনজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরডাইয়া গ্রামের মো. রাকিবুল (২২), ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দীঘলদি গ্রামের মো. সিরাজ এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দীন ইসলাম।
এদিকে, আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশ ধ্বংসের উপক্রম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এর প্রতিবাদে গত শনিবার আশুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।