মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে লোহাগাড়ার সকাল ও রাতের দৃশ্য। গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকালবেলা এবং গভীর রাতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। সূর্যের আলো দেখা পেতে সময় নিচ্ছে সকাল ৮টার পর পর্যন্ত। এতে গ্রামীণ জনজীবনে এসেছে এক ধরনের প্রশান্তি আর শীতের আমেজ।
লোহাগাড়ার পদুয়া, চুনতি, আমিরাবাদ ও কলাউজান ইউনিয়নের গ্রামীণ এলাকা এখন সাদা কুয়াশার চাদরে মোড়া। সকালে ক্ষেতখামার, নদীর তীর আর গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্যের রূপকথা তৈরি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভোরের কুয়াশায় ভেজা ধানের শীষ আর গাছপালা দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে উঠেছে।
কক্সবাজার থেকে ভোরে লোহাগাড়ার দিকে আসা এক মালবাহী ট্রাক চালক জানান, “সকালবেলা রাস্তা ভালোভাবে দেখা যায় না। কুয়াশায় আলো জ্বালিয়ে গতি কমিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।” একই কথা বললেন মোটরসাইকেলচালকরাও। কুয়াশার কারণে অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে অনেকের অভিমত।
অন্যদিকে, কৃষকেরা এই সময়টিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, কুয়াশার সঙ্গে আসছে ঠান্ডা ও শিশির—যা ধান, সবজি ও শীতকালীন ফসলের জন্য উপকারী। ধানক্ষেতে এখন জমে থাকা শিশিরবিন্দু তাদের ফসলের পক্ষে ভালো লক্ষণ বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় কৃষক আবুল কাসেম।
সব মিলিয়ে, লোহাগাড়ার সকাল-রাত এখন এক অন্যরকম অনুভূতিতে ভরা—কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা নরম প্রকৃতি, হালকা ঠান্ডা হাওয়া আর ভোরের শিশিরে ভেজা গাছপালার সৌন্দর্যে যেন শীতের আগমনকে বরণ করে নিচ্ছে মানুষ আর প্রকৃতি দু’জনেই।